তুফানগঞ্জ, ২২ মে :
শপথ গ্রহণের পর আজ প্রথমবার তুফানগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত রামপুর এলাকায় পা রাখলেন পুনর্নির্বাচিত বিজেপি বিধায়িকা মালতী রাভা রায়। একসময় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি নিরঞ্জন সরকারের ‘শক্ত ঘাঁটি’ এবং তৃণমূলের অকাট্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই রামপুরে বিধায়িকার আগমনকে কেন্দ্র করে আজ আয়োজন করা হয়েছিল এক সংবর্ধনা সভার। আর সেই সংবর্ধনা মঞ্চেই তৈরি হলো এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।
এদিন রামপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার ওই সংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত করা হয় তৃণমূলের রাজনৈতিক সন্ত্রাসে প্রাণ হারানো বিজেপি কর্মী রাখাল দাসের মাতৃহারা ছেলেকে। বিগত দিনে এই রামপুর এলাকাতেই রাজনৈতিক হিংসার বলি হতে হয়েছিল রাখাল দাসের স্ত্রী রূপা দাসকে। আজ মায়ের স্মৃতি বুকে নিয়ে মঞ্চে হাজির হয়েছিল সেই অসহায় পরিবারটির সন্তান। নিষ্পাপ ওই মাতৃহারা শিশুকে পাশে বসিয়েই আজ একদা তৃণমূলের দুর্গে দাঁড়িয়ে ঝাঁঝালো হুঙ্কার দেন বিধায়িকা মালতী রাভা রায়।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এবং মঞ্চ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিধায়িকা বলেন”তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীর অত্যাচারে একসময় এই এলাকায় বিজেপির কোনো নেতা-কর্মী আসতে পারতেন না। বিগত বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে কোনো নির্বাচন জুড়েই এই এলাকায় প্রচার করার কোনো পরিবেশ ছিল না। নিরঞ্জন সরকারের নেতৃত্বে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীরা বিজেপি কর্মী থেকে শুরু করে খোদ বিধায়িকার ওপর পর্যন্ত বারবার বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। হিংসার রাজনীতি করে যারা রূপা দাসের মতো আমাদের কর্মীদের খুন করেছে, এই নিষ্পাপ শিশুর কোল থেকে তার মাকে কেড়ে নিয়েছে, তাদের কোনো ক্ষমা নেই।”
বিগত নির্বাচনগুলিতে রামপুর এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ওপর হওয়া নির্মম অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে বিধায়িকা স্পষ্ট জানান, রাজনৈতিক হিংসার সমস্ত পুরোনো মামলার ফাইল এবার পুনরায় খোলা হবে। যারা অতীতে অত্যাচার করেছে, তারা এখন এলাকা ছাড়া। মালতী রাভা রায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তৎকালীন সময়ে পুলিশ প্রশাসন আমাদের কর্মীদের ওপর হওয়া নির্মম অত্যাচারের কোনো কেস নিতে চায়নি, রূপা দাসের মৃত্যুর ঘটনায় এবং অন্যান্য বহু ক্ষেত্রে মামলাও সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলেছে। যাঁরা আগে কেস করতে পারেননি, এবার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে নতুন করে কেস করানো হবে এবং পুরোনো কেসগুলো রি-ওপেন করে অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। আইনের হাত থেকে কেউ পার পাবে না।”
অপরদিকে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয়েও এদিন মুখ খোলেন বিধায়িকা। রায়ডাক নদীর ওপর বহু প্রতীক্ষিত জালধোয়া সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী ৫ বছরের মধ্যেই এই সেতু নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কলকাতা স্তরে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ইতিবাচকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং তুফানগঞ্জের জন্য রূপরেখা তৈরির পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি, জোড়াই এলাকায় বন্ধ হয়ে থাকা এনবিএসটিসি (NBSTC) বাস ডিপোটি পুনরায় চালু করে মহিলাদের বিনামূল্যে যাত্রী পরিষেবা দেওয়ার বিষয়েও তিনি জেলা শাসকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান।
একদা তৃণমূলের ব্লক সভাপতির শক্ত ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে, মাতৃহারা শিশুকে পাশে নিয়ে বিজেপি বিধায়িকার এই সফর এবং সন্ত্রাসের ফাইল খোলার কড়া বার্তা আগামী দিনে তুফানগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

