আলিপুরদুয়ার, ৫ জুলাই:
উত্তরবঙ্গের চা বাগান শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩১৩.৩০ কোটি টাকার ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা’ (PMCSPY) বাস্তবায়নের রূপরেখায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে রাজ্যস্তরের কমিটি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শ্রমিকদের মৌলিক পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ‘চা শ্রমিক শিক্ষা যোজনা’ (CSSY)-র জন্য ১৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ চা শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
এছাড়া ‘চা শ্রমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনা’ (CSSSY)-র অধীনে চা বাগান এলাকায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ‘চা শ্রমিক আশ্রয় যোজনা’ (CSAY)-র আওতায় ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৩২১টি বিশ্রামাগার (রেস্টিং শেড) নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে পাহাড়ি এলাকায় ৮৮টি এবং সমতল এলাকায় ২৩৩টি বিশ্রামাগার তৈরি হবে। প্রতিটি বিশ্রামাগারে অফ-গ্রিড সৌর বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, বসার ব্যবস্থা এবং শৌচালয়ের মতো আধুনিক সুবিধা থাকবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর (NBDD)। স্বাস্থ্য দফতর, পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের চা বাগান শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে। এ বিষয়ে চা বাগানের এক শ্রমিক রিতা মুন্ডা জানিয়েছেন, “১৫ বছরে চা বাগানের জন্য ভালো কিছু হয়নি। চা শ্রমিকদের যথেষ্ট দুর্দশা দেখা গিয়েছিল। নতুন সরকারকে আমরা নিজেদের সরকার মনে করছি। উন্নয়নমূলক কাজ আরও হবে আশা রাখছি।”
এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি বিধানসভার বিধায়ক তথা স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা জানান, “চা বাগানের খেটে খাওয়া শ্রমিকদের কথা একমাত্র আমাদের সরকার ভাবে। রাজ্য বাজেটেও এবারে চা বাগানগুলির জন্য একটি উন্নয়নমূলক বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছিল। এরপরেই চা বাগানের শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য শুরু করে শিক্ষাখাতে টাকা বরাদ্দ হল। এরপর আমরা চা বাগানে বসবাসকারীদের জমি তাঁদের নামে করে দেওয়ার কথা ভাবব।”

