শিলিগুড়ি, ১৪ জুলাই:
শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা থানার অন্তর্গত হাঁসখোয়া চা বাগানে এক ব্যক্তির মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশনে শ্রমিকরা কাজ করতে গিয়ে দেহটি দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাগডোগরা থানার পুলিশ এবং তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করা হলেও তাঁর বিচ্ছিন্ন মাথার এখনও পর্যন্ত কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনাটির নৃশংসতা এবং রহস্যজনক পরিস্থিতির কারণে তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেহটি উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
কাটা মাথার সন্ধানে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট থেকে বিশেষভাবে স্নিফার ডগ আনা হয়। পুলিশ কুকুরের সাহায্যে হাঁসখোয়া চা বাগানের বিস্তীর্ণ এলাকা, সংলগ্ন ঝোপঝাড় এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চালানো হয়। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন মাথার কোনও হদিস মেলেনি।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে মরদেহের প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে তদন্তকারীরা একটি ভোটার পরিচয়পত্র উদ্ধার করেছেন। ওই পরিচয়পত্রে নাম রয়েছে ইমাম, বাবার নাম সানি খুয়া, এবং ঠিকানা হিসেবে বিহারের কিষানগঞ্জ জেলার পোথিয়া উল্লেখ রয়েছে।
তবে তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া ভোটার পরিচয়পত্রটি আদৌ মৃত ব্যক্তির কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পরিচয়পত্রটি অন্য কারওও হতে পারে। তাই মৃত ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিহার পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
ঘটনাটি খুন কি না, নাকি অন্য কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত—সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে। দেহটি কীভাবে সেখানে এল, ঘটনাস্থলই কি হত্যাকাণ্ডের জায়গা, নাকি অন্য কোথাও হত্যার পর দেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নগুলিরও উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গেও কথা বলছে। গত কয়েকদিনে কোনও ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন কি না, সেই তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া ভোটার পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক তদন্তের ফলাফল হাতে এলে মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আপাতত অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ ঘটনার প্রতিটি দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।

