মাথাভাঙ্গা, ১৫ জুলাই:
কোচবিহারের মাথাভাঙ্গায় এক তৃণমূল নেতার গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন একসময়ের প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মাইনোরিটি সেলের জেনারেল সেক্রেটারি উজির মিয়া। তাঁর গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মাথাভাঙ্গা শহরে বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়। পরে থানার সামনে জড়ো হয়ে তাঁরা লাড্ডু বিতরণ করেন এবং আনন্দ-উল্লাসে সামিল হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে উজির মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পুলিশের নজরে ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই অন্যান্য কয়েকজন তৃণমূল নেতার মতো তিনিও প্রকাশ্যে খুব কম দেখা দিতেন। অবশেষে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
উজির মিয়ার গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই মাথাভাঙ্গা থানার সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠছিল, তাঁর গ্রেফতারিতে তাঁরা সন্তুষ্ট। পরে উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করা হয় এবং স্লোগান তুলে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করেন তাঁরা। থানার সামনে কিছু সময়ের জন্য উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি, উজির মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উপর হামলা, বিজেপি নেতা-কর্মীদের মারধর, জমি দখল, ভাঙচুর-সহ একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ওঠে। তবে এসব অভিযোগের সবকটির বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। পুলিশ কোন মামলায় এবং কী ধারায় তাঁকে গ্রেফতার করেছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে মাথাভাঙ্গার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত যেই হোক না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই গ্রেফতারি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাকে ঘিরে মাথাভাঙ্গার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। আগামী দিনে তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং আদালতে মামলার অগ্রগতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

