কোচবিহার, ১৫ জুলাই:
সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে কোচবিহারের ঘুঘুমারিতে আয়োজন করা হলো ‘জনতার দরবার’। এই কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ তাঁদের নানাবিধ সমস্যা, অভিযোগ ও দাবি সরাসরি তুলে ধরেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের সামনে। সকাল থেকেই কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা লিখিত ও মৌখিকভাবে স্পিকারের কাছে তুলে ধরেন।
এদিনের জনতার দরবারে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস ছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় নেতৃত্ব। অভিযোগ শোনার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
জনতার দরবারে মূলত এলাকার রাস্তা সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন, ড্রেন পরিষ্কার, পানীয় জলের সমস্যা, নদীবাঁধ মেরামত, জলনিকাশি, বিদ্যুৎ, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ উঠে আসে। বহু মানুষ ব্যক্তিগত সমস্যার পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের দাবিও জানান। কেউ ভাঙাচোরা রাস্তার সমস্যা তুলে ধরেন, আবার কেউ বর্ষাকালে জল জমে যাওয়ার কারণে চরম দুর্ভোগের বিষয়টি স্পিকারের নজরে আনেন। নদীবাঁধের দুর্বল অবস্থা এবং ভাঙনের আশঙ্কা নিয়েও একাধিক বাসিন্দা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সাধারণ মানুষের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধির সামনে সরাসরি নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরার সুযোগ খুব কমই আসে। তাই এই ধরনের উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে একাধিকবার আবেদন করেও অনেক সমস্যার সমাধান হয়নি। জনতার দরবারে সরাসরি বিষয়টি তুলে ধরতে পেরে তাঁরা আশাবাদী যে এবার সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।
বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস জানান, জনতার দরবারের মূল উদ্দেশ্যই হল সাধারণ মানুষের কথা সরাসরি শোনা এবং তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত যে কোনও সমস্যা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচি শুধু ঘুঘুমারিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের জনতার দরবারের আয়োজন করা হবে, যাতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ সরাসরি তাঁদের সমস্যা ও দাবি প্রশাসনের নজরে আনতে পারেন। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই জনতার দরবার রাত পর্যন্ত চলবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একে একে অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলি নথিভুক্ত করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, এই ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত হলে বহু দীর্ঘদিনের সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান সম্ভব হবে এবং প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও আরও বৃদ্ধি পাবে।

