জলপাইগুড়ি, ১৫ জুলাই:
পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং সবুজায়নের বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে জলপাইগুড়িতে পালিত হচ্ছে অরণ্য সপ্তাহ ২০২৬। এই উপলক্ষে জলপাইগুড়ি জেলা গ্রন্থাগার আধিকারিকের উদ্যোগে এবং সামাজিক বনবিভাগ, জলপাইগুড়ি ডিভিশনের সহযোগিতায় ১৪ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
অরণ্য সপ্তাহ উদযাপনের অংশ হিসেবে বুধবার জলপাইগুড়ি জেলা গ্রন্থাগারে অনুষ্ঠিত হয় পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি এবং চারা গাছ বিতরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপস্থিত সাধারণ মানুষ, পাঠক-পাঠিকা এবং গ্রন্থাগারে আগতদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি তাঁদের হাতে বিভিন্ন ধরনের চারা গাছ তুলে দেওয়া হয় এবং বাড়ির আশপাশে ও খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের জন্য উৎসাহিত করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান সময়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। নির্বিচারে গাছ কাটা, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অবনতির কারণে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেক মানুষকে বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে।
এদিনের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র গাছ বিতরণ নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে বন, জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি গাছ শুধুমাত্র প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এটি মানুষের জীবন রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই প্রত্যেকের উচিত জীবনের বিশেষ মুহূর্তে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়া।
অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন গ্রন্থাগারেও চারা গাছ বিতরণ এবং পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। “বন বাঁচাও, জীবন বাঁচাও” এবং “সবুজ অরণ্য, সুন্দর ভবিষ্যৎ”—এই বার্তাকে সামনে রেখেই এবারের অরণ্য সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আধিকারিকরা জানান, শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগে নয়, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই পরিবেশ রক্ষা সম্ভব। তাই বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন খালি জায়গায় বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।
জলপাইগুড়ি জেলা গ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনেও পরিবেশ রক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। পাঠক সমাজ ও সাধারণ মানুষকে এই ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করে সবুজ জলপাইগুড়ি গড়ে তোলাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য।

