ডুয়ার্স, ১৫ জুলাই:
খাবারের সন্ধানে ফের লোকালয়ে ঢুকে তাণ্ডব চালাল একটি বুনো হাতি। মঙ্গলবার রাতে ডুয়ার্সের মাটিয়ালি ব্লকের বাতাবাড়ি ও পশ্চিম বাতাবাড়ি এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খাদ্যের সন্ধানে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা হাতিটি প্রথমে একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্নাঘরে হামলা চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করে। পরে অন্য একটি এলাকায় ঢুকে একটি বাড়ির বেড়া ভেঙে ঘরে মজুত ধান সমেত ডুলি শুঁড় দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে খরিয়ার বন্দর জঙ্গল থেকে একটি বুনো হাতি বেরিয়ে প্রথমে চলে আসে মাটিয়ালি ব্লকের বাতাবাড়ি ব্যাংকপাড়া এলাকায়। সেখানে থাকা ২২০ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ঢুকে হাতিটি রান্নাঘরের দেওয়াল ভেঙে দেয়। পাশাপাশি ওই এলাকার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের গেটও ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে জানা গিয়েছে।
হাতির আচমকা হানায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতে হাতির উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যান। এরপর হাতিটি ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায় পশ্চিম বাতাবাড়ির দিকে। সেখানে বাবলু ওরাওঁ নামে এক বাসিন্দার বাড়িতে ঢুকে পড়ে হাতিটি। বাড়ির বেড়া ভেঙে ঘরের ভিতরে ঢুকে মজুত রাখা ধান সমেত ডুলি শুঁড় দিয়ে তুলে নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় বাড়ির লোকজন ঘরের ভিতরেই ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। হাতির উপস্থিতি বুঝতে পেরে তাঁরা কোনওক্রমে ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে আচমকা হাতির হানায় পরিবারটির মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই এলাকায় পৌঁছন খুনিয়া স্কোয়াডের বনকর্মীরা। তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং হাতিটির গতিবিধির উপর নজর রাখেন। পরে হাতিটি ফের খরিয়ার বন্দর জঙ্গলের দিকে চলে যায় বলে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই বিষয়ে বাতাবাড়ি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়িকা জমিলা খাতুন জানান, হাতির হামলায় রান্নাঘরের দেওয়াল ভেঙে গিয়েছে এবং রান্নার উনুনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
বনদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাতির হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করলে সরকারি বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গল থেকে লোকালয়ে হাতি বেরিয়ে আসার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে এবং খাবারের সন্ধানে হাতির দল বা একাকী হাতি প্রায়ই বসত এলাকায় ঢুকে পড়ে। ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে বনদপ্তরের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

