মাথাভাঙা, ২৪ জুলাই:
মাথাভাঙা–শীতলকুচি রাজ্য সড়কে শুক্রবার সকালে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। যাত্রীবোঝাই একটি ই-অটো এবং একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হল ই-অটো চালকের। দুর্ঘটনায় আহত হন দুই শিশু ও দুই মহিলাসহ মোট চারজন যাত্রী। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিছু সময়ের জন্য রাজ্য সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার আনুমানিক সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে বড় কাউয়ারডারা এলাকার ঠাকুরের বাসা সংলগ্ন মাথাভাঙা–শীতলকুচি রাজ্য সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মাথাভাঙা থেকে যাত্রী নিয়ে শীতলকুচির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল একটি ই-অটো। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে, অর্থাৎ শীতলকুচির দিক থেকে মাথাভাঙার দিকে আসছিল একটি পণ্যবাহী ট্রাক। আচমকাই দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে ই-অটোর সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর ই-অটোর চালক নজরুল ইসলাম গুরুতরভাবে গাড়ির ভেতরে আটকে পড়েন। স্থানীয় মানুষজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত নজরুল ইসলামের বাড়ি মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের কুর্শামারী গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় খলিসামারি এলাকায়। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার বাসিন্দারাও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
দুর্ঘটনায় ই-অটোতে থাকা দুই শিশু ও দুই মহিলা গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের পর তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। আহতদের দ্রুত ই-অটো থেকে বের করে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাঁরা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতদের শারীরিক অবস্থার ওপর চিকিৎসকদের বিশেষ নজর রয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। কিছু সময়ের জন্য মাথাভাঙা–শীতলকুচি রাজ্য সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুটি গাড়ি রাস্তার মাঝখানে পড়ে থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও দমকলের তৎপরতায় যানবাহন সরিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মাথাভাঙা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সমরেন হালদার, মাথাভাঙা থানার আইসি-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে আসে দমকলের একটি ইঞ্জিন। পুলিশ ও দমকল কর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালান এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত ই-অটো ও ট্রাক সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে এই মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটল, ট্রাক বা ই-অটোর কোনওটির চালকের গাফিলতি ছিল কি না, অতিরিক্ত গতি কিংবা অন্য কোনও কারণ এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুই গাড়িকেই পরীক্ষার জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, মাথাভাঙা–শীতলকুচি রাজ্য সড়কের এই অংশে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থেকেই যায়। তাঁদের দাবি, ওই এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা, প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসানো এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
এই দুর্ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। একদিকে ই-অটো চালকের অকালমৃত্যু, অন্যদিকে চার যাত্রীর আহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

