জলপাইগুড়ি, ২৫ আগস্ট
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ, ঠিক তখনই বাজারে কড়া নজরদারি শুরু করল জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন। শুধু বাজারদর যাচাই নয়, অবৈধ মজুতদারি রুখতেও এবার সরাসরি বাজারে নামলেন খোদ জেলাশাসক।
মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলা সদর-সহ মালবাজার ও ধূপগুড়ি মহকুমায় খাদ্যসামগ্রীর দাম ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সদরে বৈঠক শেষ হওয়ার পরই শহরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র দিনবাজারে অভিযানে নামে জেলা প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের দল।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলাশাসক অদিতি চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন পুলিশ সুপার সুজাওআ কুমাথী বীণাপাণি, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অসীম হালদার-সহ জেলা প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা।
দিনবাজারের বিভিন্ন দোকান ও মজুতকেন্দ্রে গিয়ে স্টকের হিসাব খতিয়ে দেখেন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার। কোথায় কতটা খাদ্যসামগ্রী মজুত রয়েছে, সেইসঙ্গে বাজারে চাল, চিনি-সহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম কত চলছে, তা সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হয়।
তবে এখানেই শেষ নয়। খাদ্যসামগ্রীর গুণগত মান নিয়েও নজরদারি চালানো হয়। একটি মিষ্টির দোকানে গিয়ে তৈরি খাবারের মান ও গুণগত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।
জেলাশাসক অদিতি চৌধুরী জানান, চাল, চিনি-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর বাজারদর যাচাই করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোজ্য তেলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই নমুনাগুলি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রশাসনের এই অভিযানের লক্ষ্য একদিকে যেমন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা, তেমনই অন্যদিকে অবৈধ মজুতদারি এবং নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
জেলা প্রশাসনের এই কড়া নজরদারির ফলে বাজারদর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের।

