দার্জিলিং, ২ সেপ্টেম্বর
টানা বৃষ্টির জেরে ফের ধসের কবলে সিকিম। এবার ভয়াবহ ভূমিধসে বিপর্যস্ত পশ্চিম সিকিমের গুরুত্বপূর্ণ রিম্বি–ইউকসোম সড়ক। পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে রাস্তার উপর জমেছে মাটি, পাথর এবং বড় বড় ধ্বংসাবশেষ। যার জেরে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ওই রুটে যান চলাচল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধসের ব্যাপকতায় রাস্তার একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে রিম্বি ও ইউকসোমের মধ্যে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একইসঙ্গে এই পথ ব্যবহারকারী পর্যটকরাও বিপাকে পড়েছেন।
তবে শুধু রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়াই নয়, আরও বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ধসের আশপাশের বাড়িগুলিকে ঘিরে। পাহাড়ের ঢাল আলগা হয়ে পড়ায় রাস্তার ধারে থাকা একাধিক বাড়ি এখন ঝুঁকির মুখে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নতুন করে ধস নামলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে উদ্বেগ তাঁদের।
কিন্তু ধস কি এখানেই থামবে? নাকি ফের নড়ে উঠবে পাহাড়ের ঢাল? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। বর্ষার সময় সিকিমের পাহাড়ি এলাকায় ধস নতুন ঘটনা নয়। তবে সাম্প্রতিক এই ধসের আকার এবং বাড়িঘরের কাছাকাছি অবস্থান উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ধসপ্রবণ পাহাড়ের ঢাল পরীক্ষা করা প্রয়োজন। শুধু রাস্তার উপর থেকে মাটি-পাথর সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পাহাড়ের সংশ্লিষ্ট অংশ স্থায়ীভাবে কতটা নিরাপদ, তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
রিম্বি–ইউকসোম সড়ক স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি পর্যটনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাস্তা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনও আর্থিক সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় চিন্তা অবশ্য পাহাড়ের ধারে থাকা বাড়িগুলির বাসিন্দাদের নিয়ে। ধস আপাতত থেমে গেলেও মাটি ও পাহাড়ের ঢাল পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়েছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন স্থানীয়রা। ফলে আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটছে তাঁদের। রাস্তা কবে খুলবে, তার থেকেও বড় প্রশ্ন—বাড়িগুলি কি আদৌ নিরাপদ?
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বারবার ধস নামার পর রাস্তা পরিষ্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হলেও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না হলে সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন। তাই দ্রুত রাস্তা পরিষ্কারের পাশাপাশি পাহাড় সংরক্ষণ, ঢাল শক্ত করা এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির দাবি জোরালো হচ্ছে।
বর্তমানে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া এবং ধসপ্রবণ অংশ নিরাপদ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখন অপেক্ষা, কবে ফের খুলবে রিম্বি–ইউকসোম সড়ক, আর তার আগে পাহাড়ের ধারে থাকা মানুষগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে তো?

