বক্সিরহাট, ৬ সেপ্টেম্বর : একই পরিবারের দু’জনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল বক্সিরহাটের রামপুর এলাকায়। বাড়ির শোবার ঘর থেকে উদ্ধার হল ৭০ বছরের বৃদ্ধের দেহ। কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে প্রায় ২০ মিটার দূরের ঝোপ থেকে উদ্ধার হল তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর রক্তাক্ত দেহ। কী কারণে এই জোড়া খুন? নেপথ্যে কে বা কারা? তা নিয়েই শুরু হয়েছে পুলিশের তদন্ত।
মৃতদের নাম সুনীল বিশ্বাস (৭০) এবং জানকী বিশ্বাস (৪৫)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে বাড়ির শোবার ঘরে সুনীল বিশ্বাসের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের।
খবর পেয়ে বক্সিরহাট থানার জোড়াই ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন সুনীলবাবুর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী জানকী বিশ্বাস। এরপর তাঁর খোঁজ শুরু হলে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে, প্রায় ২০ মিটার দূরের একটি ঝোপের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
একই পরিবারের দু’জনের এমন রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। কী কারণে এই জোড়া খুন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
জানা গিয়েছে, সুনীল বিশ্বাসের প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানরা পাশের বাড়িতেই থাকতেন। ফলে পারিবারিক কোনও বিষয় এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বক্সিরহাট থানার পুলিশ। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের সন্ধানে ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জানকী বিশ্বাসের বোনের ছেলেকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে ঠিক কী কারণে এই জোড়া খুন এবং ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা স্পষ্ট নয়। রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় এখন একটাই প্রশ্ন—একই পরিবারের দু’জনকে এভাবে খুন করার নেপথ্যে আসল কারণ কী?

