কোচবিহার, ২৫ আগস্ট
একই ঘর থেকে উদ্ধার যুগলের অগ্নিদগ্ধ দেহ। শুক্রবার সকালে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় কোচবিহারের হাজরাপাড়া এলাকায়। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দুজনকেই উদ্ধার করে কোচবিহার এম জে এন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, অগ্নিদগ্ধ দুজনের নাম অমিদুল ও ঝিলিক বর্মন। স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকায় নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলেই পরিচয় দিতেন ঝিলিক।
শুক্রবার সকালে আচমকাই অমিদুলকে ঘরের ভিতর থেকে গায়ে আগুন নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নজরে আসতেই তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর খবর দেওয়া হয় দমকলে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ঘরের ভিতরে তল্লাশি চালিয়ে এক অগ্নিদগ্ধ মহিলার সন্ধান পান দমকলকর্মীরা। তাঁকেও উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কিন্তু একই ঘরে কীভাবে অগ্নিদগ্ধ হলেন দুজন? ঘটনার নেপথ্যে আসলে কী রয়েছে? এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য?
ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনাটি কি খুনের চেষ্টা? নাকি দুজনেই একসঙ্গে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন? নাকি আগুন লাগার পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ?
পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গিয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, দুজনের পারস্পরিক সম্পর্ক, ঘটনার আগে তাঁদের মধ্যে কোনও সমস্যা হয়েছিল কি না এবং কীভাবে ঘরের ভিতরে আগুন লাগল, সেই সমস্ত বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
অগ্নিদগ্ধ দুজন বর্তমানে কোচবিহার এম জে এন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতি এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার পরই গোটা ঘটনার ছবি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
হাজরাপাড়ার এই ঘটনায় আপাতত একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। একই ঘরে আগুনের ঘটনায় কি সামনে আসবে কোনও গোপন রহস্য? নাকি তদন্তে উঠে আসবে সম্পূর্ণ অন্য কোনও কারণ? সেদিকেই এখন নজর তদন্তকারীদের।

