আলিপুরদুয়ার, ১৫ সেপ্টেম্বর: দুই দেশের বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন গড়তে এবং পর্যটনের মানচিত্রকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে এবার এক মেগা উদ্যোগের সাক্ষী থাকল উত্তরবঙ্গ। ভারত ও নেপালের মধ্যে পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের সম্পর্ককে আরও সুমধুর ও শক্তিশালী করে তুলতে মঙ্গলবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ঠিক কী পরিকল্পনা রয়েছে দুই দেশের পর্যটন বিশেষজ্ঞদের ঝুলিতে?
আলিপুরদুয়ারের জলদাপাড়া প্রকৃতিবিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এই বিশেষ ‘ইন্দো-নেপাল মিট’ ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে পর্যমহলে। বৈঠকে ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং নেপাল থেকে আগত বিশিষ্ট পর্যটন বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরো বিষয়টিতে বাড়তি গুরুত্ব দেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা।
বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল—ডুয়ার্স এলাকার বিশেষ করে জলদাপাড়া ও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের অন্তর্গত বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানগুলিকে বিদেশি পর্যটকদের সামনে আরও আকর্ষণীয় করে তুলে ধরা এবং এই অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় জনজাতির সংস্কৃতিকে সীমানা পার করে ছড়িয়ে দেওয়া। সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা আত্মবিশ্বাসের সুরেই জানান, “আগামী দিনে আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা এবং জলদাপাড়ার পর্যটন আলাদামাত্রা পেতে চলেছে। বক্সায় বাঘ আসছে, জলদাপাড়ার খয়েরবাড়ি, কুঞ্জবন এবং টোটোপাড়া নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা রয়েছে। নেপালের পর্যটকরা এখানে এলে দারুণভাবে সমৃদ্ধ হবেন।”
অন্যদিকে, নেপালের পর্যটন বিশেষজ্ঞ নবীন খড়েল দুই দেশের মেলবন্ধন নিয়ে বলেন, “নেপালেও প্রচুর দর্শনীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে। ভারতের মানুষেরাও যেন সেই স্থানগুলি সম্পর্কে জানতে পারে, সেটাই আমাদের প্রধান কাম্য।” ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে বিশ্বজিৎ সাহাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন যে, এর ফলে দুই দেশের পর্যটন যেমন উন্নতির শিখর ছুঁয়ে যাবে, তেমনই এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সাধারণ মানুষও দারুণভাবে উপকৃত হবেন। আন্তর্জাতিক এই পর্যটন বৈঠকের হাত ধরে আগামী দিনে ডুয়ার্সের অর্থনীতিতে বড় কোনো বিপ্লব আসতে চলেছে কি না, এখন সেটাই দেখার!

