শীতলকুচি, ১১ জুন:
স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন যুবক। সেই অবস্থাতেই নিজের জন্মদাত্রী মায়ের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ কোচবিহার জেলার শীতলকুচি ব্লকের খলিশামাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সোনারচালুন এলাকায়। ঘটনায় গুরুতর জখম হন এক বৃদ্ধা। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসক সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত বৃদ্ধার নাম রাজবালা বর্মন। অভিযুক্ত তাঁর ছেলে সন্তোষ বর্মন। পরিবারের দাবি, কয়েক মাস আগে সন্তোষ বর্মন একটি সন্তান-সহ এক মহিলাকে বিয়ে করেন। তবে পারিবারিক অশান্তির জেরে গত মঙ্গলবার তাঁর স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকেই সন্তোষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং চরম অবসাদে ভুগছিলেন।
আহতের মেয়ে মামনি বর্মন জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তোষকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এমনকি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কারও কথা শুনছিলেন না। বৃহস্পতিবার দুপুরে আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, হঠাৎই সন্তোষ বর্মন ধারালো অস্ত্র নিয়ে নিজের মা রাজবালা বর্মনের উপর হামলা চালান। তাঁর মাথায় একাধিক আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
হাসপাতালের শয্যা থেকে রাজবালা বর্মন জানান, ছেলের স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি ছেলেকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি নতুন করে বিয়ের ব্যবস্থাও করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সন্তোষ কোনও কথা শুনতে চাইছিল না। বরং ক্রমশ উত্তেজিত হয়ে পড়ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই ক্ষোভই তাঁর উপর হামলার রূপ নেয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবুও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্ত যুবকের মানসিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং হামলার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

