জলপাইগুড়ি, ১৯ জুন:
জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ এলাকায় ভোরবেলায় ঘটে গেল একটি গুরুতর পথদুর্ঘটনা। দুধ ও দুধজাত সামগ্রীবোঝাই একটি ছোট বাণিজ্যিক গাড়িকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা মারে একটি বড় লরি। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ছোট গাড়িটির চালক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর প্রায় সাড়ে ৫টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। শিলিগুড়ি থেকে দুধ ও বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে একটি ছোট মালবাহী গাড়ি জলপাইগুড়ির দিকে যাচ্ছিল। প্রতিদিনের মতোই বাজার ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের উদ্দেশ্যে গাড়িটি রওনা হয়েছিল। কিন্তু রাজগঞ্জ এলাকায় পৌঁছতেই ঘটে বিপত্তি।
অভিযোগ, দ্রুতগতিতে পিছন থেকে আসা একটি ভারী লরি আচমকাই ছোট গাড়িটিকে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে গাড়িটির সামনের ও পিছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধাক্কার পর লরিটি না থেমেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্যান্য পথচলতি মানুষ।
দুর্ঘটনায় ছোট গাড়ির চালক গুরুতর জখম হন। ধাক্কার তীব্রতায় তিনি গাড়ির ভিতরেই আটকে পড়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে স্থানীয় মানুষ এবং উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় তাঁকে গাড়ি থেকে বের করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের তরফে তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার জেরে গাড়িতে থাকা বিপুল পরিমাণ দুধ ও দুধজাত সামগ্রীও নষ্ট হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। ধাক্কার ফলে বহু প্যাকেট ও কন্টেনার ছিটকে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। দুর্ঘটনার পর রাস্তার উপর ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামগ্রী, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি সরিয়ে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া লরিটির সন্ধানে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটল এবং অভিযুক্ত গাড়িটির পরিচয় কী, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জাতীয় ও রাজ্য সড়কের বিভিন্ন অংশে ভোরবেলায় এবং গভীর রাতে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই এই ধরনের ঘটনা রুখতে আরও কড়া নজরদারি এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পলাতক লরিটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

