আলিপুরদুয়ার , ২৪ জুন
জয়ন্তীর বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য ইতিমধ্যে পরিষ্কার করা হচ্ছে কালচিনি ব্লকের বনছায়া বস্তিতে থাকা সরকারি ফাঁকা জমি।এবার তার পাশে থাকা বিজয়পুরবস্তির কিছুটা জমিও নেওয়ার পরিকল্পনা প্রশাসনের বলে সূত্রের খবর। যেখানে রয়েছে বিজয়পুরবস্তির একাধিক বাসিন্দার বাড়ি ও চাষের জমিও। যা নিয়ে প্রশাসনের সাথে দ্বন্ধে জড়ালেন এলাকার বাসিন্দারা। নিজেদের ভিটেমাটি দিতে নারাজ বাসিন্দারা, বুধবার প্রশাসনের আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভও দেখান।
তাদের অভিযোগ, এরপূর্বে গত ২০২৩ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকারের নির্দেশেই একপ্রকার বাধ্য হয়ে বিজয়পুরবস্তির বেশ কিছু বাসিন্দাদের নিজেদের জমি ছাড়তে হয়েছিল, যেখানে বর্তমানে বক্সার জঙ্গলের গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়া বনবস্তির বাসিন্দাদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে এবং গ্রামটির নাম রাখা হয়েছে বনছায়া বস্তি।এরপর কয়েকবছর বাদে ফের বক্সায় বাঘবন তৈরির লক্ষে জয়ন্তী গ্রামের বাসিন্দাদের বনছায়া বস্তিতে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা প্রশাসনের। সেকারনে এবার বনছায়া বস্তি ঘেঁষা বিজয়পুরবস্তির একাধিক বাসিন্দাকে প্রশাসনের তরফে তাদের জমি ছাড়তে বলা হচ্ছে বলে দাবি।বাসিন্দাদের কথায়, এরপূর্বে একপ্রকার জোরপূর্বক আমাদের জমি নিয়ে নেওয়া হয়েছিল।সেসময় ক্ষতিপূরণের আশ্বাস মিললেও তা এখনও মেলেনি।এরপর ফের আমাদের অবশিষ্ট জমির ওপরেই নজর প্রশাসনের সেখানে একাধিক বাসিন্দার বাড়ি ও সুপরি সহ একাধিক চাষের জমি রয়েছে।আগে জমি দিলেও এবার আর জমি দেব না বলে হুঁশিয়ারি বাসিন্দাদের।
এ বিষয়ে বিজয়পুর এলাকার বাসিন্দা কলাবতী খারিয়া বলেন, “পূর্ব পুরুষের দেওয়া এই জমি একমাত্র সম্বল আমাদের। এখানে অনেকেই চা বাগানের শ্রমিক, তবে বাগানের সামান্য হাজিরায় ঘর চালানো দায়, ফলে আমাদের অনেকেই সুপরির মতো ফসল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন,আবার অনেকের বাড়িও রয়েছে।এমন পর্যায়ে জমি নিয়ে নিলে কথায় যাবো আমরা।”
আরেক বাসিন্দা শিবচরণ টোপ্পো বলেন, “আমরা একটুও জমি ছাড়বো না। প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি।এই জমি ছাড়লে অনেকেই ভিটেমাটি, চাষের জমি হারাবেন,তারা কথায় যাবেন!”
অপরদিকে, বিজয়পুরবস্তির কিছু বাসিন্দার জমির পাট্টা থাকলেও, বাকিদের কোনো জমির কাগজ নেই বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।পাশাপাশি, প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায় জয়ন্তীর গোটা গ্রামকে পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৪৫০ একর জমির প্রয়োজন।তবে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২০ একর জমি প্রশাসন তরফে পরিষ্কার করা হয়েছে।” ফলে বনছায়া বস্তি ঘেঁষা বিজয়পুরবস্তির প্রায় ৬০ একর জমির ওপর নজর রয়েছে প্রশাসনের।

