মাথাভাঙ্গা , ৬ জুন
বিভিন্ন এলাকায় কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা নিয়ে যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আলোচনা চলছে, তখন এবার মাথাভাঙ্গা শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ওই এলাকায় জমি বিক্রি, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের নামে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। পাশাপাশি ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও ওঠে। এই অভিযোগের তির স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর কাকলি ঘোষ এবং মাথাভাঙ্গা শহর ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি নয়নজ্যোতি সাহা-র বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর অন্যান্য তৃণমূল নেতাদের মতোই এলাকা ছাড়া হয়েছিলেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর কাকলি ঘোষ ও যুব নেতা নয়নজ্যোতি সাহা। ফল প্রকাশের প্রায় এক মাস পরে কাকলি ঘোষ এলাকায় ফিরে এলেও এখনও বাড়ির বাইরে রয়েছেন নয়নজ্যোতি সাহা বলে দাবি স্থানীয়দের।
শুক্রবার রাতে এলাকার দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে মোট ১ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এখনও কয়েক লক্ষ টাকার বেশি ফেরত দেওয়া বাকি রয়েছে।
যদিও অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলে কাউন্সিলর কাকলি ঘোষ দাবি করেছেন, তাঁকে ব্যবহার করেই টাকা তুলেছিলেন তৃণমূল যুব নেতা নয়নজ্যোতি সাহা। তাঁর অভিযোগ, নয়নজ্যোতি সাহা অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কাজ করাতেন। তাঁর চাপে পড়েই তাঁকে একাধিক কাজে যুক্ত হতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন কাকলি ঘোষ।
অন্যদিকে, নয়নজ্যোতি সাহার প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, টাকা ফেরতের এই প্রক্রিয়া আগামী দিনেও চলতে পারে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

