কোচবিহার, ২৭ জুন
কোচবিহার ঘুঘুমারি তে জনরোষের বিস্ফোরণ! দড়ি বেঁধে বাজার ঘোরানো হল অঞ্চল সভাপতির ঘনিষ্ঠকে|
কোচবিহারে তীব্র চাঞ্চল্য! জনরোষের মুখে অঞ্চল সভাপতি ঘনিষ্ঠ ফজলু হক — এবার কি রাজনৈতিক চাপের কেন্দ্রে অঞ্চল সভাপতি দীপক দে?
কোচবিহারের ঘুঘুমারি এলাকায় এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একাংশের মানুষের অভিযোগ ছিল, অঞ্চল সভাপতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফজলু হকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার, মারধর, রাজনৈতিক হিংসা এবং ২০২১ সালের পর থেকে একাধিক অরাজক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও একই ধরনের অভিযোগ তুলে আসছিল বলে দাবি করেছে।
শনিবার সেই ক্ষোভ যেন বিস্ফোরণের রূপ নেয়। অভিযোগ, এলাকার বহু মানুষ একজোট হয়ে ফজলু হকের কোমরে দড়ি বেঁধে ঘুঘুমারি বাজার চত্বর ঘোরান। পাশাপাশি তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফজলু হক বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, অঞ্চল সভাপতি দীপক দে-র ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদেই তিনি সেই প্রভাব ব্যবহার করেছেন। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে দীপক দে বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
এদিকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উঠে এসেছে। যদি অভিযোগ সত্যিই এতটাই গুরুতর হয়ে থাকে যে সাধারণ মানুষের মধ্যে এত প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তাহলে কেন জনতা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিল? প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আবেদন করা হলেও, অভিযোগ অনুযায়ী ক্ষুব্ধ জনতা সেই নির্দেশ অমান্য করেই ফজলু হকের কোমরে দড়ি বেঁধে বাজার ঘোরায়। এই ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এ ব্যাপারে পরিবারের অভিযোগ কয়েক জন বিজেপির লোক মিলে মারধর ও কোমরে দড়ি বেঁধে বাজার ঘোড়ায়।
এখন রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা—এই ঘটনার পর কি রাজনৈতিক চাপের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবেন অঞ্চল সভাপতি দীপক দে? অভিযোগের তীর কি এবার তাঁর দিকেও ঘুরবে, নাকি অভিযোগের জবাবে উঠে আসবে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনও সত্য?
এখন সেই উত্তরই খুঁজছে কোচবিহারের মানুষ। পাশাপাশি এই ঘটনায় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
তবে এ ব্যাপারে বিজেপির জেলার ওবিসি মোর্চার জেনারেল সেক্রেটারি অনন্ত দে সরকার জানান যা হয়েছে নিন্দনীয় তবে ঘটনা জানার পড়ে তাঁকে তার দাদার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

