শিলিগুড়ি, ১ জুলাই:
উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়নের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে শিলিগুড়ির সরকারি অতিথি নিবাসে অনুষ্ঠিত হলো জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ কমিটির (দিশা) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বৈঠকে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, বাস্তবায়নের গতি, প্রশাসনিক সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণ, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক, মহকুমা প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক এবং একাধিক সরকারি দফতরের প্রতিনিধিরা। দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া ও নকশালবাড়ি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনায় উঠে আসে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ, প্রধানমন্ত্রী আবাসন প্রকল্প, ভূমির পাট্টা প্রদান, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আর্থিক উন্নয়ন, গ্রামীণ পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা। কোথাও কোথাও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা, জমি সংক্রান্ত সমস্যা কিংবা পরিকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার বিষয়ও তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে দ্রুত সেই সমস্যার সমাধান করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, সংশোধিত কর্মসংস্থান প্রকল্পে শ্রমিকদের কাজের দিনের সংখ্যা এবং মজুরি—দুটিই বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার বহু শ্রমজীবী মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভুয়ো কর্মসংস্থান পরিচয়পত্র চিহ্নিত করে বাতিল করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এতে প্রকৃত উপভোক্তারাই সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন বলে তাঁর দাবি।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণ উত্তরবঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, বাগডোগরা সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান (আইআইটি) এবং অখিল ভারতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান (এইমস) গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে কেন্দ্রের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিনের বৈঠকে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তবায়নে নিয়মিত নজরদারি, সময়মতো কাজ শেষ করা এবং উপভোক্তাদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকের শেষে অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত অতিথিরা উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথাও শোনেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও কেন্দ্রের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা যাতে দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই এই ধরনের পর্যালোচনা বৈঠক নিয়মিত আয়োজন করা হবে।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এদিনের বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা।

