শিলিগুড়ি, ৩ জুলাই
উত্তরবঙ্গকে কলকাতা-নির্ভরতা থেকে মুক্ত করার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করার পাশাপাশি কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ‘পলাতক’ জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে শোকজের নির্দেশও দেন তিনি,প্রায় দুই ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক।
শিলিগুড়ির উত্তরকন্যাতে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন,প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বর্ষাকালীন প্রস্তুতি নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান,উত্তরবঙ্গের মানুষকে প্রশাসনিক পরিষেবার জন্য আর কলকাতার মুখাপেক্ষী থাকতে হবে না।উত্তরকন্যাকেই কার্যকর প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ।একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।তাঁর অভিযোগ,বহু পঞ্চায়েত ও পুরসভার জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করছেন না।এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুভেন্দু অধিকারী “সরকারের কোনো শনি-রবিবার নেই।সরকার মানে ২৪ঘণ্টা কাজ। কোনো জনপ্রতিনিধির জন্য প্রশাসনিক কাজ আটকে থাকতে পারে না।”উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান,উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে।এইমস,ক্যানসার হাসপাতাল,নতুন মেডিক্যাল কলেজ,বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ এবং নতুন সেচ প্রকল্পের মতো একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।বর্ষাকালে বন্যা ও ধস মোকাবিলায় অতিরিক্ত উদ্ধারকারী বাহিনী গঠন,সিভিল ডিফেন্স কর্মী ও প্রাক্তন সেনাকর্মীদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।এছাড়া,‘১২৫ দিনের কাজ’প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান,এর মাধ্যমে রাজ্যের কোটি কোটি জবকার্ডধারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।উন্নয়ন থেকে প্রশাসনিক জবাবদিহি-দুই ক্ষেত্রেই কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।উত্তরবঙ্গকে স্বনির্ভর ও প্রশাসনিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলাই যে সরকারের প্রধান লক্ষ্য,উত্তরকন্যার বৈঠক থেকে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে।*

