শিলিগুড়ি, ২ জুলাই:
দীর্ঘদিনের আবর্জনা ফেলা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রক্তাক্ত হামলার অভিযোগ উঠল শিলিগুড়ির গঙ্গানগর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক যুবককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তি ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খালপাড়া থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি আবাসন থেকে দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেলা নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ, ওই আবাসন থেকে নিয়মিতভাবে গৃহস্থালির বর্জ্য, প্লাস্টিক, মদের বোতল-সহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা প্রকাশ্যে ফেলে রাখা হত। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার আপত্তি জানালেও স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। সেই ক্ষোভই ধীরে ধীরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার কারণ হয়ে ওঠে।
শনিবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ ফের একই বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে কথাকাটাকাটি হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, সেই সময় রাজেন্দ্র নামে এক ব্যক্তি এবং তাঁর ছেলে মিলে এক যুবকের উপর চড়াও হন। তাঁকে ধাক্কাধাক্কি করার পর লাঠি ও ঘুষি-লাথি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
হামলায় যুবকের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। শরীরের বিভিন্ন অংশেও চোট পান তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের আরও দাবি, মারধরের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকিও দেন। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত নিজে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানা গেলেও, তাঁর ছেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় কাউন্সিলর অনিতা মাহাতো। তিনি আহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। কিছুক্ষণের মধ্যেই খালপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অন্যদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ, আবর্জনা ফেলার সমস্যা দীর্ঘদিনের। শুধুমাত্র গৃহস্থালির বর্জ্য নয়, মদের বোতল-সহ নানা ধরনের বর্জ্য প্রকাশ্যে ফেলে রাখার ফলে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রাস্তাঘাট নোংরা হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও স্থায়ী সমাধান না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছিল বলেই দাবি তাঁদের।
স্থানীয়দের বক্তব্য, এই হামলার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় আবর্জনা ব্যবস্থাপনারও স্থায়ী সমাধান করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আবারও এ ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

