কোচবিহার ,১৪ আগস্ট
ব্রিজের অভাবে ৬ মাস পড়াশোনা বন্ধ! ঘুঘুমারির চার গ্রামের মানুষের ক্ষোভ চরমে
কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের ঘুঘুমারি চরকের কুঠি ও দেওয়ানবস এলাকায় ব্রিজের দাবিতে বছরের পর বছর আন্দোলন, আবেদন আর প্রতিশ্রুতি—তবুও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। একটি ছোট্ট ব্রিজের অভাবে বর্ষা এলেই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে চারটি গ্রামের মানুষ। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে হচ্ছে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা এলেই প্রায় ৫ থেকে ৬ মাস পড়াশোনা কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীদের পিঠে চাপিয়ে জল পার করাতে বাধ্য হন অভিভাবকরা। কখনও স্রোত ও জলস্তর বেড়ে গেলে স্কুলে যাওয়াই বন্ধ হয়ে যায়।
চরকের কুঠি দেওয়ানবস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী নদীর ওপার থেকে আসে। বর্ষায় তাঁদের স্কুলে আসতে একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এমনকি পরীক্ষার দিনেও অনেকে সময়মতো স্কুলে পৌঁছতে পারে না। ফলে সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিশুদের পড়াশোনা ও পরীক্ষায়।
শুধু স্কুল নয়—চাষাবাদ, চিকিৎসা, বাজার-হাট, কর্মক্ষেত্রসহ প্রতিদিনের যাতায়াতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চার গ্রামের মানুষকে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এই নদীপথ ব্যবহার করেন।
অভিভাবকদের ক্ষোভ, “বছরের পর বছর সরকার বদলেছে, প্রতিশ্রুতি বদলেছে, কিন্তু আমাদের সমস্যা বদলায়নি। একটি ছোট্ট ব্রিজের জন্য কেন আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ থাকবে?”
এবার ক্ষোভ আরও তীব্র। এলাকাবাসীর হুঁশিয়ারি, দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়া হলে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে চার গ্রামের মানুষ একজোট হয়ে ভোট বয়কটের পথে হাঁটবেন। পাশাপাশি বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রী এবং এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—আর কতদিন?
একটি ব্রিজের অভাবে আর কত মাস শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ থাকবে? আর কতদিন নদী পেরোতে হবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে?
চার গ্রামের মানুষের দাবি স্পষ্ট—প্রতিশ্রুতি নয়, এবার চাই স্থায়ী সমাধান। চাই মানসাই নদীর উপর ব্রিজ।

