নিজস্ব সংবাদদাতা ,৪ জুলাই
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই কম বেশি বৃষ্টি হয়েই চলেছে। কিছু জায়গায় দু-এক পশলা, হালকা-মাঝারি হলেও একাধিক জায়গায় প্রবল বর্ষণের আশঙ্কাও করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রাজ্যের অধিকাংশ জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার কারণেই এই চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ৫ জুলাই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বর্ষার সবচেয়ে সক্রিয় রূপ নেবে|
🔴উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া :-
*****************************
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সতর্কতা নেই, তবে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের পার্বত্য জেলাগুলিতে কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে পারে।
দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারএই জেলাগুলির এক-দুটি জায়গায় ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া এবং ৭-১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, তবে কোনো ভারী বৃষ্টির বিশেষ সতর্কতা বা অ্যালার্ট নেই।
দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি (প্রায় ৭৮%) থাকার কারণে বৃষ্টি না হলে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি বজায় থাকবে।
🔴দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া:-
***************************
আগামীকাল ৫ জুলাই দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং তীব্র দুর্যোগের সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।আগামীকাল দক্ষিণবঙ্গে সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং নিম্নচাপের প্রভাবে একটানা ঝড়-বৃষ্টি চলবে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সাথে সাথে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তাপমাত্রা: তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কিছুটা কম থাকবে এবং একটানা বৃষ্টির ফলে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে।
বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস: কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর সহ সংলগ্ন জেলাগুলোতে দিনভর হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বিশেষ কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও রয়েছে।
সমুদ্র ও উপকূল: যেহেতু নিম্নচাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাই মৎস্যজীবীদের সমুদ্র ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হতে পারে।
🟠 অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা (কমলা সতর্কতা) :- দক্ষিণ ২৪ পরগনা,পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর,ঝাড়গ্রাম
,পুরুলিয়া,বাঁকুড়া এই জেলাগুলিতে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত মুষলধারে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে:
🟡 ভারী বৃষ্টির সতর্কতা (হলুদ সতর্কতা) :- কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রগর্ভ মেঘ ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে:
💨 ঝোড়ো হাওয়া ও সমুদ্রের সতর্কতা
গতিবেগ: বৃষ্টির সময় উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে তীব্র দমকা হাওয়া বইতে পারে।
🌡️ তাপমাত্রা ও পরিবেশ :- টানা বৃষ্টির কারণে গরম থেকে স্বস্তি মিললেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫° সেলসিয়াসের আশেপাশে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮° সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে।
🔴কোচবিহারে আবহাওয়া :-
***************************
আগামীকাল ৫ জুলাই, ২০২৬ কোচবিহারে আংশিক মেঘলা আকাশসহ বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।কোচবিহারে আংশিক মেঘলা আকাশ সহ বিক্ষিপ্ত বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি অথবা ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় 35° C এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা 27° C এর কাছাকাছি থাকতে পারে। বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকবে।
তাপমাত্রা: দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫° সেলসিয়াস (৯৫° ফারেনহাইট) এবং রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৭° সেলসিয়াস (৮১° ফারেনহাইট) হতে পারে।
বৃষ্টির সম্ভাবনা: দিনভর মাঝারি ধরণের মেঘের পাশাপাশি প্রায় ৪৭% থেকে ৫৫% বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
বাতাসের আর্দ্রতা: বর্ষাকালীন আবহাওয়ার কারণে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকবে, ফলে গরম ও অস্বস্তিকর অনুভূতি বজায় থাকতে পারে।

