কোচবিহার, ৭ জুন:
কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ ও হুমকির অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
মৃত ব্যক্তির নাম দিলীপ দেবনাথ। তিনি কোচবিহারের গুরিয়াহাটি এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী ছিলেন। রবিবার তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনৈতিক চাপের মুখে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এলাকায় বিজেপি নেতাদের একাংশের তরফে তাঁকে নানাভাবে মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছিল এবং আর্থিক দাবিও করা হচ্ছিল। এই ধারাবাহিক চাপের কারণেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং আত্মহননের পথ বেছে নেন বলে দাবি পরিবারের।
ঘটনার পর মৃতের বাড়িতে শোকাহত আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমে যায়। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এলাকার মানুষও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
পরিবারের আরও অভিযোগ, শুধু চাপ নয়, একাধিকবার হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছিল দিলীপ দেবনাথকে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কোচবিহার জেলাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন মহল থেকে এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
এই ঘটনার জেরে কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।

