শিলিগুড়ি, ৫ জানুয়ারী :
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস মিউনিসিপাল ইনডোর স্টেডিয়ামে টেবিল টেনিস একাডেমি চালু করার লক্ষ্যে শিলিগুড়ি পৌরনিগমে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এসএমসি কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি পৌরনিগমের মেয়র গৌতম দেব, ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার সহ পৌরনিগমের অন্যান্য আধিকারিকরা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মেয়র গৌতম দেব জানান, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস মিউনিসিপাল ইনডোর স্টেডিয়াম খুব দ্রুতই সম্পূর্ণভাবে অপারেশনাল করা হবে। ইতিমধ্যেই স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে স্টেডিয়ামটি চালু হয়ে গিয়েছে। এই স্টেডিয়ামে একদিকে যেমন স্টেট র্যাঙ্কিং প্লেয়াররা বড় পরিসরে খেলার সুযোগ পাবেন, তেমনই একেবারে নতুন যারা খেলায় হাতেখড়ি নিচ্ছে তারাও এখানে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে।
মেয়র আরও জানান, ইতিমধ্যেই ২৩ জন খেলোয়াড় প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন ছোট শিশু এখানে খেলার সুযোগ পাবে। প্রশিক্ষণের মান বজায় রাখতে বিশিষ্ট কোচদের নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই অমিত দাম, মান্তু ঘোষ, সুব্রত রায় সহ একাধিক অভিজ্ঞ কোচের সঙ্গে কথা হয়েছে। ছোট ও বড় খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা আলাদা কোচিং টিম তৈরি করা হবে এবং প্রতিদিন প্রশিক্ষণ চলবে।
বর্তমানে ইনডোর স্টেডিয়ামে ৬টি টেবিল রয়েছে, ভবিষ্যতে আরও চারটি টেবিল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যাডমিন্টন চালু করারও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মেয়র। এছাড়া একটি পূর্ণাঙ্গ জিম তৈরির কাজও দ্রুত শুরু হবে। স্টেডিয়ামের বর্তমান আলো ব্যবস্থা এলইডি লাইটে রূপান্তরিত করা হবে বলেও জানানো হয়।
মেয়র গৌতম দেব জানান, আগামী ২৪ তারিখ দুপুর ৩টেয় এই ইনডোর স্টেডিয়াম পুনরায় উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের দিন সমস্ত টেবিল টেনিস সংস্থা, প্রশিক্ষক এবং প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিত থাকার জন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ব্যাডমিন্টন ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশিক্ষণ সূচি অনুযায়ী সপ্তাহে শিশুদের তিনদিন এবং বড়দের চারদিন, প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ ফি প্রসঙ্গে জানানো হয়, নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক ৩০০ টাকা এবং বড়দের জন্য ৫০০ টাকা প্রশিক্ষণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ফি থেকে মাসে আনুমানিক ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ হবে। তবে স্টেডিয়ামের এলইডি লাইট, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। বাকি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা শিলিগুড়ি পৌরনিগমের তরফ থেকেই বহন করা হবে। পাশাপাশি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বল ও পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হবে।
এছাড়া খুব শীঘ্রই জিম নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে এবং একাডেমি উদ্বোধনের আগেই এর নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ফুটবল ও ক্রিকেটের পর এবার পৌরনিগমের নিজস্ব উদ্যোগে টেবিল টেনিস একাডেমি চালু হওয়ায় শিলিগুড়ি শহর এক নতুন ক্রীড়া পরিকাঠামোর দিক থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। একসময় টেবিল টেনিসে বিখ্যাত এই শহরে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ফের ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে পৌরনিগম।

