জলপাইগুড়ি, ১৪ জুন:
জলপাইগুড়ি শহরের ঐতিহ্যবাহী কিং সাহেবের বাঁধ এলাকায় প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো একটি বিশাল শিশু গাছ উপড়ে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে আচমকাই গাছটি ভেঙে নদী বাঁধের উপর পড়ে যায়। ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সৌভাগ্যবশত কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অল্পের জন্য একটি বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিং সাহেবের বাঁধ এলাকার এই শিশু গাছটি বহু দশক ধরে এলাকার অন্যতম পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো এই গাছটি শুধু পরিবেশগত দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং এলাকার বহু মানুষের স্মৃতি ও আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে ছিল। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই গাছের পাশ দিয়ে যাতায়াত করতেন এবং অনেকেই এর ছায়ায় সময় কাটাতেন।
মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে দেখা যায়, বিশালাকৃতির শিশু গাছটি শিকড়-সহ উপড়ে গিয়ে নদী বাঁধের উপর আছড়ে পড়েছে। গাছটির আকার এতটাই বড় যে পড়ে যাওয়ার পর বাঁধের একটি বড় অংশ জুড়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষজন প্রথমে আশঙ্কা করেন যে কোনও বাড়ি বা পথচারীর উপর গাছটি পড়েছে কি না। তবে পরে জানা যায়, গাছটি জনবসতি থেকে কিছুটা দূরে পড়ায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে টানা বৃষ্টি ও মাটির নরম হয়ে যাওয়ার কারণে গাছটির শিকড় দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও গাছটি ভেঙে পড়ার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেকের মতে, এত পুরনো গাছ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তার স্থায়িত্ব কমে গিয়েছিল।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বুধবার সকাল থেকে এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় মানুষজন। বহু মানুষ গাছটির ছবি তুলতে এবং ঘটনাস্থল দেখতে সেখানে ভিড় করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
খবর পেয়ে বুধবার সকালে জলপাইগুড়ি পৌরসভার কর্মী, সিভিল ডিফেন্সের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা প্রথমে এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে। এরপর বিশালাকার গাছটি কেটে সরানোর কাজ শুরু হয়। গাছটির আকার অত্যন্ত বড় হওয়ায় তা অপসারণ করতে বিশেষ সরঞ্জাম ও অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাছটি সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে বাঁধের স্বাভাবিক চলাচল পুনরুদ্ধার করা হবে। পাশাপাশি আশপাশে থাকা অন্যান্য পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলির অবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “গাছটি এলাকার একটি ঐতিহ্যের অংশ ছিল। এত বছরের পুরনো গাছ ভেঙে পড়ায় খারাপ লাগছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয়, কোনও মানুষের ক্ষতি হয়নি। যদি দিনের বেলা বা ব্যস্ত সময়ে গাছটি পড়ত, তাহলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।”
এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এলাকাবাসীরা অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। ঘটনার পর থেকে কিং সাহেবের বাঁধ এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ গাছের নিচে অযথা ভিড় না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

