শিলিগুড়ি, ১৩ জুন:
শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা আইনুল হকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ফাঁসিদেওয়া জুড়ে। শনিবার ভোরে তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ— সকলেই স্তম্ভিত এই ঘটনায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই সময় কাটান আইনুল হক। রাতের খাবার খাওয়ার পর তিনি নিজের ঘরে বিশ্রাম নিতে যান। কিন্তু শনিবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘরে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গেই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে প্রথমে ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন আইনুল হক। ফাঁসিদেওয়া এলাকার জননেতা হিসেবে তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি ছিল। তিনি একসময় বাঁশগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ হন এবং বর্তমানে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ পদে কর্মরত ছিলেন। এলাকায় সংগঠন শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের নানা সমস্যার সমাধানে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। সম্প্রতি স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। চিকিৎসাও চলছিল নিয়মিত। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা এবং তার ফলে সৃষ্ট মানসিক চাপ এই ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ পুলিশ।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই তাঁর বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং এলাকার সাধারণ মানুষ। বহু মানুষ তাঁদের প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হন। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন জনপ্রিয় সমাজকর্মী হিসেবেও এলাকায় তাঁর যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আইনুল হকের আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা। দলের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ফাঁসিদেওয়ার রাজনীতিতে তাঁর মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি।
বর্তমানে পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় শোকের আবহে স্তব্ধ হয়ে রয়েছে ফাঁসিদেওয়া ও শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহল।

