জলপাইগুড়ি, ১২ জুন:
রাজ্যজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের ফাটাপুকুরে তৈরি বিশেষ হোল্ডিং সেন্টারে ২৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর এলাকা থেকে তাঁদের বাসে করে এই হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা বাড়ার পাশাপাশি এলাকাজুড়েও ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ জন মহিলা, কয়েকজন পুরুষ এবং ৭ জন শিশু। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে তাঁরা অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন। জীবিকার তাগিদে কেউ রিকশাচালক, কেউ রংমিস্ত্রি, আবার কেউ দিনমজুরের কাজ করতেন বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।
আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য ফাটাপুকুরে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার। নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গোটা সেন্টারটিকে উঁচু টিনের ঘেরা দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পের চারপাশে বসানো হয়েছে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা, যাতে প্রতিটি গতিবিধির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো যায়।
হোল্ডিং সেন্টারের ভিতরে আটক ব্যক্তিদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পানীয় জল, শৌচাগার এবং প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানবিক দিক বিবেচনা করেই তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে হোল্ডিং সেন্টারে ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। সেন্টারের বাইরে ও ভিতরে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও নিয়মিত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।
যদিও আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের পরিচয় যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করা হবে। এরপর আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের অনুমান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী Border Security Force-এর হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে, যাতে পরবর্তী কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
রাজগঞ্জের ফাটাপুকুরে এই বিশেষ হোল্ডিং সেন্টারে ২৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে রাখার ঘটনাকে ঘিরে উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে নতুন করে নিরাপত্তা ও সীমান্ত নজরদারির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়াতে প্রশাসন আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

