আলিপুরদুয়ার, ১৪ জুলাই:
সীমান্ত শহর জয়গাঁর দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে সাড়া দিয়ে অবশেষে স্থায়ী সরকারি মানি এক্সচেঞ্জ (মুদ্রা বিনিময়) কাউন্টার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। ভুটানের সঙ্গে প্রতিদিনের বাণিজ্যিক লেনদেনের অন্যতম প্রবেশদ্বার জয়গাঁয় সরকারি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের অভাব দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে আর্থিক লেনদেন আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
জয়গাঁ-ফুন্টশোলিং সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত হয়। ভুটানের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতীয় মুদ্রা ও ভুটানি নুলট্রামের বিনিময় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু এতদিন জয়গাঁয় সরকারি মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টার না থাকায় ব্যবসায়ীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি সংস্থা বা বেআইনি মুদ্রা বিনিময়কারীদের উপর নির্ভর করতে হতো।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারি ব্যবস্থার অভাবকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত কমিশন আদায় করতেন। অনেক ক্ষেত্রে মুদ্রা বিনিময়ের নামে ১০ শতাংশ বা তারও বেশি অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হতো। ফলে ব্যবসার খরচ যেমন বেড়ে যেত, তেমনি আর্থিক লেনদেনে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিও তৈরি হতো। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধানের দাবিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিল।
অবশেষে সেই দাবির প্রেক্ষিতেই জয়গাঁ সংলগ্ন গোটিবাড়িতে প্রস্তাবিত স্থল বন্দরের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক সরকারি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থল বন্দর চালু হলে আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি বৈধ ও সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে মুদ্রা বিনিময়ের সুযোগও মিলবে। ফলে সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা বলেন, “জয়গাঁয় স্থায়ী সরকারি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র এবং আমদানি-রপ্তানির প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সমস্যার মুখে পড়ছিলেন। অতীতে এই বিষয়টিকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বর্তমান রাজ্য সরকার সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে। গোটিবাড়িতে যে স্থল বন্দর গড়ে তোলা হবে, সেখানেই একটি আধুনিক, স্থায়ী সরকারি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা বৈধ ও স্বচ্ছ উপায়ে মুদ্রা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন এবং সীমান্ত বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, সরকারি মানি এক্সচেঞ্জ চালু হলে বেআইনি মুদ্রা বিনিময়কারীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কমিশন দেওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলবে এবং ব্যবসার খরচও কমবে। সীমান্ত বাণিজ্যের প্রসারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও মনে করছেন তাঁরা।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, গোটিবাড়িতে প্রস্তাবিত স্থল বন্দরকে কেন্দ্র করে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থা, পণ্য সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং সরকারি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রসহ একাধিক পরিষেবা চালুর উদ্যোগ রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে জয়গাঁ-ভুটান সীমান্তে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

