ডুয়ার্স, ১৭ জুলাই:
ডুয়ার্সের মাটিয়ালী ব্লকের বাতাবাড়ি দিঘিরপাড় এলাকায় ক্রমশ বাড়ছে ডেঙ্গির প্রকোপ। গত তিন সপ্তাহে এই এলাকায় মোট ৯ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত প্রত্যেকেই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। তবুও পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে ডেঙ্গির সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়া রুখতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ব্লক স্বাস্থ্য দফতর ও ব্লক প্রশাসন। প্রয়োজনে ড্রোনের সাহায্যে মশার প্রজননস্থলে কীটনাশক স্প্রে করার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করায় গোটা এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিদিন নিয়মিত ফগিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গি প্রতিরোধে সচেতন করা হচ্ছে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও জল জমতে না দেওয়া, ফুলের টব, টায়ার, ড্রাম বা অন্য কোনও পাত্রে দীর্ঘদিন জল জমে থাকলে তা ফেলে দেওয়া, মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো এবং শরীর ঢেকে রাখার মতো একাধিক বিষয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।
শুধু প্রচারেই সীমাবদ্ধ নয় প্রশাসনের উদ্যোগ। স্বাস্থ্যকর্মী ও গ্রামীণ সম্পদ কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ডেঙ্গি প্রতিরোধে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বোঝাচ্ছেন। কারও জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা বা ডেঙ্গির উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে ইতিমধ্যেই বাতাবাড়ি দিঘিরপাড় এলাকা পরিদর্শন করেছেন মাটিয়ালী ব্লকের বিডিও সুমন্ত ভৌমিক এবং ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বিশ্বজিৎ সরকার। তাঁরা স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে আক্রান্তদের পরিস্থিতি, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। একই সঙ্গে এলাকায় আরও কীভাবে নজরদারি বাড়ানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
এদিকে ডেঙ্গি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় যান নাগরাকাটা বিধানসভার বিধায়ক পুনা ভেংড়া। তিনি বাতাবাড়ি দিঘিরপাড়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ডেঙ্গি আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কেও তিনি খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনের পর বিধায়ক পুনা ভেংড়া জানান, ডেঙ্গি পরিস্থিতিকে কোনওভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। সংক্রমণ যাতে আর না বাড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য ব্লক প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরকে সবরকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আবেদন করেন।
স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কোনও ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজন হলে ড্রোনের মাধ্যমে দুর্গম বা জলজমা এলাকায় কীটনাশক স্প্রে করে মশার লার্ভা ধ্বংসের পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত করা হবে। পাশাপাশি নজরদারি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফগিং এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বাইট: পুনা ভেংড়া, বিধায়ক, নাগরাকাটা বিধানসভা।

