মাথাভাঙ্গা, ২২ জুলাই:
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (গ্রামীণ) ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে সরব হলেন কোচবিহারের মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের কুর্শামারী গ্রাম পঞ্চায়েতের আবাস রতনপুর এলাকার একাধিক বাসিন্দা। অভিযোগ, এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা কুর্শামারী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান আনারুল হক আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার মাথাভাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
অভিযোগকারীদের দাবি, আবাস যোজনার তালিকায় নাম তুলে ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৫০ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। কারও কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, আবার কারও কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অনেকেই ধারদেনা করে বা কষ্টে জমানো অর্থ তুলে দিয়েছিলেন, এই আশায় যে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত মিলবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও বহু উপভোক্তার নামে এখনও পর্যন্ত আবাস যোজনার ঘর বরাদ্দ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তের কাছে জানতে চাইলে বা টাকা ফেরত চাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক বাসিন্দা। ফলে আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এলাকায়।
এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে মাথাভাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগের কপি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তথা কুর্শামারী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান আনারুল হকের প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত শুরু করা হবে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

