কোচবিহার, ৩০ জুন:
জেলা বদলি (ইন্টার-ডিস্ট্রিক্ট ট্রান্সফার) এবং পারস্পরিক বদলি (মিউচুয়াল ট্রান্সফার) প্রক্রিয়া দ্রুত চালু ও সম্পন্ন করার দাবিতে মঙ্গলবার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক)-এর দফতরে ডেপুটেশন দিল ইন্টার-ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি টিচার্স ট্রান্সফার অ্যাসোসিয়েশন (IPTTA)। সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন জানানো হয়।
সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, ২০২২ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা কোচবিহার জেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তাঁদের অনেকেই বর্তমানে নিজ নিজ পরিবার থেকে বহু দূরে কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁরা নানাবিধ সামাজিক, পারিবারিক এবং আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ করে মহিলা শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছোট সন্তানের অভিভাবক, অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক এবং প্রবীণ বাবা-মায়ের একমাত্র ভরসা হিসেবে অনেকেরই কর্মস্থল ও বাড়ির দূরত্ব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত দীর্ঘ পথ যাতায়াত, অতিরিক্ত ব্যয় এবং পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাঁদের মানসিক ও শারীরিক চাপও বাড়ছে।
সংগঠনের দাবি, ইতিমধ্যেই বহু শিক্ষক জেলা বদলি ও পারস্পরিক বদলির জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা বাড়ছে। তাই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্রুত জেলা বদলি এবং পারস্পরিক বদলি প্রক্রিয়া চালু করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তা সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিন সংগঠনের প্রতিনিধিরা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক)-এর দফতরে গিয়ে তাঁদের দাবি তুলে ধরেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আবেদন জানান। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষক-শিক্ষিকারা পরিবারের কাছাকাছি কর্মস্থলে বদলির সুযোগ পেলে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান হবে, অন্যদিকে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রেও তাঁরা আরও মনোযোগী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, শিক্ষা দফতর বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জেলা বদলি ও পারস্পরিক বদলি প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু করবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এই ধরনের বদলি প্রক্রিয়াকে নিয়মিত ও সময়বদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে।

