আলিপুরদুয়ার, ২৬ জুলাই:
রাজ্য বিধানসভায় পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পর আলিপুরদুয়ার জেলায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। জেলার সাধারণ মানুষের একাংশের পাশাপাশি বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও এই বিলকে ঘিরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তাঁদের দাবি, গ্রাম পঞ্চায়েতের আর্থিক স্বাক্ষরের ক্ষমতায় পরিবর্তন আনা হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়বে, দুর্নীতির সুযোগ কমবে এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা আরও দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বিজেপি নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বহু গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রধান ও উপপ্রধান নিয়মিত পঞ্চায়েত কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র, সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত নথিপত্র, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আবেদনসহ একাধিক পরিষেবা পেতে গ্রামবাসীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
এই পরিস্থিতিতে বিধানসভায় পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল পাশ হওয়াকে সাধারণ মানুষের স্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক অলক মিত্র। তিনি বলেন, গত প্রায় পনেরো বছরে রাজ্যের বহু গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধানদের বিরুদ্ধে কাটমানি তোলার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি জবাবদিহিতা তৈরি হবে, যার ফলে কাটমানি ও দুর্নীতির প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের অর্থ সঠিকভাবে এবং দ্রুত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে বলেও তিনি আশাবাদী।
লতাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য গোপাল ঝা এই সংশোধনী বিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই আইনি পরিবর্তনের ফলে পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের যে অভিযোগ ছিল, এই সংশোধনী তার সমাধানের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে গ্রাম পঞ্চায়েতে কাটমানির অভিযোগ কমবে এবং সাধারণ মানুষ আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন দেখতে পাবেন।
একই সুরে বিজেপি নেতা অঙ্কুর ঘোষও দাবি করেন, গত পনেরো বছরে রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল পরিচালিত প্রধানদের বিরুদ্ধে নানা ক্ষেত্রে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার ফলে সেই সংস্কৃতির অবসান ঘটবে এবং পঞ্চায়েত প্রশাসনে নতুন এক স্বচ্ছতার পরিবেশ তৈরি হবে।
তবে উল্লেখ্য, এই বিষয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবে এর প্রভাব কতটা পড়ে এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কতটা পরিবর্তন আসে, সেটাই আগামী দিনে নজরকাড়া বিষয় হয়ে উঠবে।

