কোচবিহার, ১ সেপ্টেম্বর
চার মাস ধরে বেতন বন্ধ। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। একদিকে কাজ রয়েছে, অন্যদিকে মিলছে না প্রাপ্য বেতন। তাহলে তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? কেনই বা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে এই সমস্যা?
এই সমস্ত প্রশ্নকে সামনে রেখে মঙ্গলবার কোচবিহারের জেলা শাসকের কাছে দাবি পত্র তুলে দিলেন কোচবিহার জলপথ সমবায় পরিবহন সমিতির কর্মচারীরা। মূলত দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়া এবং পুনরায় সমিতির কমিটি গঠনের দাবিতেই এই দাবি পত্র জমা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
কোচবিহার শহরের ফাঁসিরঘাট এলাকায় তোরসা নদীর উপর দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই জলপথ সমবায় পরিবহন সমিতির। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী পারাপারের জন্য নৌকার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অন্যান্য সময়ে বাসের মাধ্যমে পারাপারের দায়িত্বও এই সমিতির কর্মীদের উপর থাকে।
কিন্তু রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই সমিতি বাতিল হয়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপর নতুন করে সমিতির কোনও কমিটি গঠন করা হয়নি। আর সেই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন সমিতির অধীনে কর্মরত কর্মচারীরা।
অভিযোগ, টানা চার মাস ধরে তাঁরা বেতন পাচ্ছেন না। ফলে একদিকে যেমন আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে কর্মীদের, তেমনই তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
তাহলে কি এবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপেই কাটবে এই জট?
বেতন বকেয়া মেটানোর পাশাপাশি দ্রুত নতুন করে সমিতির কমিটি গঠন করা এবং কর্মীদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার দাবিতেই এদিন জেলা শাসকের দ্বারস্থ হন তাঁরা। জেলা শাসকের হাতে নিজেদের দাবি-দাওয়া সম্বলিত পত্র তুলে দেন সমিতির কর্মচারীরা।
এখন দেখার, কর্মীদের এই দাবি নিয়ে প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয় এবং দীর্ঘ চার মাসের বেতন জট কবে কাটে। পাশাপাশি নতুন করে সমিতির কমিটি গঠনের দাবিও কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কর্মীরা।

