জলপাইগুড়ি, ২৫ আগস্ট
প্রধান শিক্ষককে রক্তাক্ত করার অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক চার, স্কুলে তীব্র নিন্দার ঝড়
গত মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে তৈরি হয়েছিল চরম উত্তেজনা। একদল ছাত্রের হাতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রক্তাক্ত হওয়ার অভিযোগ ঘিরে কার্যত স্তম্ভিত রাজ্য। ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রধান শিক্ষককে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই নিন্দার ঝড় বয়ে যায় বিভিন্ন মহলে।
এরই মধ্যে শনিবার ঘটনার তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। প্রধান শিক্ষককে রক্তাক্ত করার অভিযোগে আটক চার ছাত্রকে মুখ ঢেকে জুভেনাইল আদালতে পেশ করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই দিন?
গত মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে একদল ছাত্রের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক ধর্মচাদ বারুই-এর বচসা ও উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়। ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি।
ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমে ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামনে আসতেই আরও চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষককে এভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিভিন্ন মহলের মানুষ।
তারপর স্কুলে এলেন শিক্ষামন্ত্রী…
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে শুক্রবার জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে আসেন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। স্কুলে গিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি। মন্ত্রী জানান, ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে স্কুলের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ করা হবে এবং তাঁদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (TC) দেওয়া হবে।
এর মধ্যেই শুক্রবার সন্ধ্যায় আহত প্রধান শিক্ষক ধর্মচাদ বারুই কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত আরও জোরদার করে পুলিশ।
শনিবার পুলিশের বড় পদক্ষেপ
প্রধান শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে শনিবার চার ছাত্রকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাঁদের মুখ ঢেকে জুভেনাইল আদালতে পেশ করা হয়।
যেহেতু আটক ছাত্ররা অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তবে অভিভাবকদের বক্তব্য কী?
অন্যদিকে, আটক ছাত্রদের অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে।
তাঁদের বক্তব্য, আটক চার ছাত্রের মধ্যে একজন ঘটনার দিন অনেক পরে বন্ধুদের মারফত খবর পেয়ে স্কুলে যায়। সেখানে গিয়ে সে পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায় বলে দাবি করেছেন ওই ছাত্রের অভিভাবকরা। অর্থাৎ, ঘটনার সময় ওই ছাত্র ঘটনাস্থলে আদৌ উপস্থিত ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
অভিযোগ-পাল্টা দাবির মাঝে তদন্ত কোন দিকে?
একদিকে প্রধান শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ, অন্যদিকে আটক ছাত্রদের পরিবারের দাবি—দুই বক্তব্যই এখন পুলিশের তদন্তের আওতায়। ঘটনার সময় কার কী ভূমিকা ছিল, কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল এবং প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত—সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই শিক্ষা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এখন পুলিশের তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর সকলের।
#Jalpaiguri #JalpaiguriDistrictSchool #SchoolTeacher #HeadmasterAttack #JuvenileCourt #StudentViolence #WestBengalNews #PoliceInvestigation #EducationNews #BreakingNews

