দার্জিলিং ,২৩ অক্টোবর
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, মেঘে ঢাকা পাহাড়ের সারি আর জানলার বাইরে ছুটে চলা প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য—দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেনের আকর্ষণ যেন এখনও অমলিন। দুর্গাপুজোর ছুটিতে সেই ঐতিহ্যবাহী রেলযাত্রার স্বাদ নিতে পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া মিলল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েতে (DHR)। রেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১২ হাজার যাত্রী টয় ট্রেনে সফর করেছেন।
পর্যটকদের এই বিপুল উপস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে রেলওয়ের রাজস্বেও। মাত্র ২১ দিনে টয় ট্রেন পরিষেবা থেকে মোট ১ কোটি ৪১ লক্ষ ২৩ হাজার ১০০ টাকা আয় হয়েছে। অর্থাৎ পুজোর মরশুমে পাহাড়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে টয় ট্রেন যে এখনও অন্যতম প্রধান আকর্ষণ, সেই ছবিই ধরা পড়েছে এই পরিসংখ্যানে।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম নয়, পাহাড়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই রেলপথে বাষ্পচালিত ও ডিজেলচালিত ট্রেনে ভ্রমণ পর্যটকদের কাছে বরাবরই বিশেষ অভিজ্ঞতা। পাহাড়ি জনপদ, সবুজ চা-বাগান এবং মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে দিয়ে ধীরগতির টয় ট্রেনের যাত্রা পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
পুজোর মরশুমে পর্যটকদের এই সাড়া DHR-এর পর্যটন পরিষেবার জনপ্রিয়তাকেও নতুন করে সামনে এনেছে। ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পাহাড়ের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে টয় ট্রেনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকায় এই পরিষেবার জনপ্রিয়তা স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর ২১ দিনে ১২ হাজার যাত্রীর সফর এবং ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকারও বেশি রাজস্ব—দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের জন্য নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ঐতিহ্যবাহী রেলভ্রমণের মেলবন্ধন যে এখনও পর্যটকদের টানছে, তা স্পষ্ট এই হিসেবেই।

