১৭/০৫/২০২৫
ওয়েব ডেস্ক:

পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমকে যুক্ত করতে এই লুপ সেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ মাধ্যম। শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং ও সিকিম যাওয়ার ‘লাইফলাইন’ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষার সময় বেশি পরিমান বৃষ্টির ফলে বারংবার ধস নামে। সেক্ষেত্রে গরুবাথান হয়ে কালিম্পং দিয়ে সিকিমের দিকে যেতে সময় অনেকটাই বেশি লাগে। সেই সমস্যার সমাধান করতে শিলিগুড়ি থেকে ওলদাবাড়ির উপর দিয়ে বাগরাকোট হয়ে সিকিম যাওয়ার একটি বিকল্প রাস্তা নির্মাণ শুরু হয়। সেটারই অংশ হল লুপ সেতু। ২০১৮ সাল থেকে বাগরাকোটের চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের গা দিয়ে বেশ কিছু পিলার বসিয়ে লুপ সেতু তৈরি করা হয়েছে। সেতুর দুটি ভাগ আছে। রাজ্যের প্রথম লুপ সেতু শুধুমাত্র পর্যটনের শ্রীবৃদ্ধি নয়, রয়েছে ভৌগোলিক গুরুত্বও। রাস্তার মাঝে সর্পিল আকারে নির্মীয়মাণ লুপ সেতুটি দেখতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিমধ্যে মানুষ আসতে শুরু করেছে। সীমান্তে চিনের আগ্রাসনের ফলে মাঝেমধ্যেই উত্তেজনা বেড়ে যায়। তাই ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে গেলে দেশের সুরক্ষা একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় । এবার বাগরাকোট থেকে নাথুলা পর্যন্ত এই রাস্তাটি হওয়ার ফলে সামরিক পরিবহণের ক্ষেত্রে সুবিধা হয়েছে। সেনার কাছে একটি বিকল্প রাস্তা হিসাবে বিশেষ ভূমিকা অবলম্বন করছে ৷ লাগাতার কয়েক দিন ধরে উত্তরবঙ্গ জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বাগরাকোট থেকে সিকিম গামী সড়কে বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমেছে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন রাজ্য সড়ক এবং জাতীয় সড়কে। কিন্তু এই লুপ সেতু তৈরি হওয়ায় সিকিমগামী বেশিরভাগ যানবাহন গুলো এই রাস্তা ধরে যাতায়াত করছে। বুঝতেই পারছেন ভৌগলিক এবং পর্যটক পাশাপাশি জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই লুপ সেতুর রাস্তা। কিন্তু স্থানীয় কিছু মানুষজন এই সেতুর থেকে ৫০ মিটার দূরে বড় আকারের ফাটল দেখতে পারেন। এর পরবর্তীতেই বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে আসছে সকলের মনে। নিম্নীয়মান কাজ নাকি পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টিপাতের জেরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে এই ফাটল। এই বিষয়ে স্থানীয়রা এবং জনপ্রতিনিধিরা নির্মীয়মান সংস্থা এবং আধিকারিকদের সাথে কথা বলেন। তাদের থেকে বিভিন্ন রকমের উত্তর উঠে আসে। সেই উত্তরের সন্তুষ্ট কতটা সেটা এখনো স্পষ্ট হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তীতে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির আবহাওয়ায় চীনের আগ্রাসন অনেকটাই বেশি। বৈদেশিক শত্রুর মধ্যে ভারতের মূল শত্রু হলো পার্শ্ববর্তী দেশ চীন বারংবার সিকিম ভুটান অরুণাচল প্রদেশ এই সমস্ত জায়গাগুলোতে চীনের লাল ফৌজ এর সাথে বারংবার সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় সেনা। বর্তমানে চীন পাকিস্তান এবং বাংলাদেশও সেভেনস্টার নিয়ে বারংবার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। যেকোনো মুহূর্তে বড় কোন সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে ভারতীয় সেনা তাই নিজের দেশকে রক্ষা করতে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ভূমিকা অর্জন করবে এই লুপ সেতুর রাস্তা। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কথা মাথায় রেখে রূপ সেতু যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগেও কেন কোনরকম বড় ক্ষতি না হয় সেদিকে ও লক্ষ্য রাখতে হবে। এবং যে সমস্ত কাজ এখনো বাকি রয়েছে সেই কাজগুলো যেন সঠিক ভাবে উন্নতমান প্রযুক্তির দ্বারা তৈরি করা হয়। সে বিষয়ের নজর রাখতে হবে। তবে ফাটলের চিহ্ন দেখায় কিছুটা হলেও সংকিত রয়েছে নির্মাণকারী সংস্থা সহ স্থানীয় নাগরিক এবং জাতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা।

