জলপাইগুড়ি, ২২ মার্চ :
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে জেলার সর্বত্র জোরকদমে প্রস্তুতি চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। রবিবার জলপাইগুড়ি কোতোয়ালী থানায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা স্পষ্টভাবে জানালেন জেলা পুলিশ সুপার অমরনাথ কে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৌভনিক মুখোপাধ্যায়ও।
পুলিশ সুপার জানান, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যেই জোরদার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলার প্রতিটি থানায় বিশেষ ট্রেনিং সেশন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশকর্মীদের আরও দক্ষ ও প্রস্তুত করে তোলা হচ্ছে।তিনি আরও জানান, জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যাতে নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তার জন্য সুপরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও সমানতালে কাজ করে চলেছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় রুটমার্চ এবং টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়।অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার। জেলার চিহ্নিত দুষ্কৃতীদের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আশাবাদী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই পুরো জেলাকে একেবারে “ভায়োলেন্স ফ্রি” পরিবেশে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ কুড়িটি পয়েন্টে নাকা চেকিং চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্লাইং স্কোয়াড টিমগুলো নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে জলপাইগুড়ি জেলায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে সাধারণ ভোটাররা নির্ভয়ে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

