মাথাভাঙ্গা , ৯ জুন
মাথাভাঙ্গায় আবাস যোজনার কাটমানি ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘিরে আবারও চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের হাজরাহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একাধিক বাসিন্দার কাছ থেকে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হাসেম আলী এবং এলাকার কয়েকজন তৃণমূল নেতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আবাস প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সম্প্রতি ওই অভিযোগকে ঘিরে এলাকায় চাপ বাড়তে থাকায় কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সোমবার আমবাড়ি এলাকায় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপভোক্তাদের হাতে টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এদিন উপপ্রধান হাসেম আলী উপস্থিত না থাকায় তাঁর প্রতিনিধিরা এসে টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। জানা গিয়েছে, প্রায় ৩৫ জন উপভোক্তার হাতে আবাস যোজনার নামে নেওয়া টাকা ফেরত তুলে দেওয়া হয়।
টাকা ফেরত পাওয়ার পর উপভোক্তাদের একাংশ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা নিজেদের অর্থ ফেরতের অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে সেই টাকা হাতে পেয়ে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। যদিও স্থানীয়দের দাবি, এখনও আরও কয়েকজনের টাকা ফেরত দেওয়া বাকি রয়েছে এবং পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের দাবি, আবাস প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
মাথাভাঙ্গা অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক এলাকায় আবাস যোজনার কাটমানি ফেরতের ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

