আলিপুরদুয়ার, ১২ জুন:
পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই থমকে গেল অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণ হাতি সাফারি। সাফারিতে ব্যবহৃত একটি হাতি আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখতে হয় হাতি সাফারি পরিষেবা। ফলে ভোরবেলা থেকেই সাফারির অপেক্ষায় থাকা বহু পর্যটক চরম হতাশার মুখে পড়েন।
জানা গিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকে বর্ষাকালীন নিয়ম মেনে প্রায় তিন মাসের জন্য জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল পর্যটকদের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। সেই কারণে শেষ মুহূর্তে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে হাতি সাফারির টিকিট পেতে অনেক পর্যটক আগেভাগেই বুকিং করেছিলেন।
জলদাপাড়ায় প্রতিদিন ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ হাতি সাফারি শুরু হয়। প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ জঙ্গলের পথে এক ঘণ্টাব্যাপী এই সাফারিতে পর্যটকদের বন্যপ্রাণী ও জঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ মেলে। জিপ সাফারির তুলনায় হাতি সাফারির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি হওয়ায় বহু পর্যটক বিশেষভাবে এই অভিজ্ঞতার জন্যই জলদাপাড়ায় আসেন।
শুক্রবার সকালে সাফারি শুরু হওয়ার আগেই একটি সাফারি হাতি অসুস্থ হয়ে পড়ে। বনদপ্তরের কর্মীরা হাতিটির শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে সাফারি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। নিরাপত্তা এবং প্রাণীর স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
সাফারি বাতিল হওয়ার খবর পেয়ে অনেক পর্যটক ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, হাতিটির অসুস্থতার বিষয়টি আগে থেকে জানা থাকলে বিকল্প পরিকল্পনা করা যেত। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে শুধুমাত্র হাতি সাফারির অভিজ্ঞতা নেওয়ার উদ্দেশ্যে জলদাপাড়ায় এসেছিলেন। ফলে সাফারি বাতিল হওয়ায় তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা তৈরি হয়েছে।
তবে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব পর্যটক হাতি সাফারির জন্য টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। পাশাপাশি অসুস্থ হাতিটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পশুচিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে।
বর্ষাকালের আগে পর্যটকদের ভিড় যখন চরমে, ঠিক সেই সময় হাতি সাফারি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে আসা পর্যটকদের একাংশের পরিকল্পনায় ছন্দপতন ঘটেছে। তবে বনদপ্তরের দাবি, প্রাণীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনওরকম ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। হাতিটি সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকেই জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। পর্যটকদের একাংশ হতাশ হয়ে ফিরলেও অনেকেই বনদপ্তরের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, বন্যপ্রাণীর সুস্থতাই সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

