শিলিগুড়ি, ১৩ জুন:
শিলিগুড়ির গুরুঙ বস্তিতে এক ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে শহর। আগামী ১৪ জুন বীর জওয়ান চক প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে গোরখা সমাজের দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বাঘবীর গুরুং ও পুন্যপ্রসাদ প্রধানের মূর্তি উন্মোচন করা হবে। একই সঙ্গে প্রকাশিত হবে স্মারকগ্রন্থ ‘চিনহারি–২০২৬’।
এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে ভানু ভক্ত সমিতি। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুরুঙ বস্তি ও প্রধাননগর এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে বাঘবীর গুরুং এবং পুন্যপ্রসাদ প্রধানের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সমাজ গঠনমূলক ভূমিকা, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং সাংস্কৃতিক নেতৃত্বকে স্মরণ ও সম্মান জানাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা। ভানু ভক্ত সমিতির সভানেত্রী রেণুকা সুব্বার সভাপতিত্বে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের দাবি, এটি শুধুমাত্র একটি মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠান নয়, বরং গোরখা সমাজের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই অনুষ্ঠানে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি থাকার কথা রয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং (গোলে)। এছাড়াও আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এবং শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব।
ভানু ভক্ত সমিতির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ লামা (পেম্বা) বলেন, এই কর্মসূচি গোরখা সমাজের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। বাঘবীর গুরুং ও পুন্যপ্রসাদ প্রধানের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের আদর্শকে সমাজে আরও ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, স্মারকগ্রন্থ ‘চিনহারি–২০২৬’ প্রকাশের মাধ্যমে নেপালি ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের বার্তাও তুলে ধরা হবে। এতে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষদের অবদান ও ইতিহাসও স্থান পাবে বলে জানা গিয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাহিত্যিক, সমাজকর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আয়োজকদের আশা, এই ঐতিহাসিক কর্মসূচি শিলিগুড়ির সাংস্কৃতিক মানচিত্রে একটি বিশেষ স্থান করে নেবে।

