জলপাইগুড়ি, ১৪ জুন:
পড়শির ছাগল চুরি করে সেই মাংসই এলাকায় বিক্রির অভিযোগ। আর সেই অভিযোগের জেরেই জনতার হাতে ধরা পড়ে গণরোষের মুখে পড়তে হল এক যুবককে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় জলপাইগুড়ি শহরের হাসপাতাল পাড়া এলাকায়। অভিযুক্ত যুবক স্থানীয়ভাবে ‘চেঙ্গু’ নামে পরিচিত এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের বাড়ি জলপাইগুড়ির দাসপাড়ায়। তিনি হাসপাতাল পাড়া এলাকায় একটি মাংসের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলাকাবাসীদের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে হাসপাতাল পাড়া এবং সংলগ্ন এলাকায় একাধিকবার ছাগল ও পাঠা চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই কোনও না কোনও বাড়ি থেকে গৃহপালিত পশু উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। যদিও এতদিন কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। তবে স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন এই যুবক।
অভিযোগ, শনিবার এলাকায় এক প্রতিবেশীর ছাগল কেনার জন্য দামদরও করেছিলেন অভিযুক্ত। কিন্তু মালিক ছাগল বিক্রি করতে রাজি হননি। এরপর রবিবার ভোররাতে ছাগলের মালিক ঘুম থেকে উঠে দেখেন, তাঁর ছাগলটি গোয়ালঘর থেকে নিখোঁজ। সঙ্গে সঙ্গেই পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানানো হয়। এরপরই শুরু হয় ছাগলের খোঁজাখুঁজি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্দেহের বশে অভিযুক্ত যুবকের খোঁজ শুরু করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজির পর দু’নম্বর রেলগুমটি সংলগ্ন বস্তি এলাকায় একটি মাদকাসক্তদের আড্ডাস্থলে তাঁর সন্ধান মেলে বলে দাবি স্থানীয়দের। যদিও তখন তাঁকে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়নি। পরে এলাকাবাসীরা গোপনে তাঁর গতিবিধির উপর নজরদারি চালাতে থাকেন।
অভিযোগ, রবিবার সকালে আলো ফোটার কিছু পরেই হাসপাতাল পাড়ার একটি নির্দিষ্ট স্থানে ছাগলের মাংস বিক্রি শুরু করেন ওই যুবক। বিষয়টি নজরে আসতেই ছাগলের মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালান। সেখানে গিয়ে তাঁরা রক্তের দাগ, ছাগলের চামড়া এবং নাড়িভুঁড়ি উদ্ধার করেন বলে দাবি করেন। এরপরই ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত যুবককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
ঘটনাস্থলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ছোট-বড় চুরির ঘটনা ঘটলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে মানুষের ক্ষোভ জমে ছিল। সেই ক্ষোভই এদিন বিস্ফোরিত হয়। অভিযুক্তকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ জনতা তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে।
ছাগলের মালিক এক মহিলা অভিযোগ করে জানান, ঘটনার পর একাধিকবার পুলিশকে ফোন করা হলেও দীর্ঘ সময় কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, ফোন ধরার জন্য বারবার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যেই ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করে। রবিবার সকাল থেকে হাসপাতাল পাড়া এলাকায় চাপা উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় বারবার ছাগল ও গবাদি পশু চুরির ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি চুরি চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি শহরের হাসপাতাল পাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি মাদকাসক্তি, চুরি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে স্থানীয় মহলে।

