শিলিগুড়ি, ১৫ জুন:
রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এবার শিলিগুড়িতে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন দফতরের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন শঙ্কর ঘোষ। সোমবার শিলিগুড়ি শহরের মৈনাক ট্যুরিজম প্রপার্টি-তে অবস্থিত পর্যটন দফতরের কার্যালয়ে পৌঁছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এদিন দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সংবর্ধনা জানান। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মন্ত্রী।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শঙ্কর ঘোষ বলেন, উত্তরবঙ্গের অপরিসীম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, অরণ্য, নদী এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি গোটা পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তাঁর কথায়, “বাংলার পর্যটনকে এমনভাবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করতে চাই, যাতে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ একটি স্বতন্ত্র ও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।”
মন্ত্রী জানান, আগামী ১৭ তারিখ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পর্যটন শিল্পের বিকাশ সংক্রান্ত একাধিক নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। সেই প্রস্তাবগুলির মধ্যে পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন, নতুন পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভাবনা, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং পর্যটকদের জন্য আরও উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে পারে। পরবর্তীতে এই প্রস্তাবগুলি রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকেও উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বিভিন্ন সমস্যার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। বিশেষ করে ঘুম থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত সড়কপথে যানজটের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পর্যটনমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যটনের মরসুমে এই যানজটের কারণে পর্যটকদের দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকতে হয়, যা পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এছাড়াও উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্তম্ভ চা শিল্পের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলি শুধু অর্থনীতির ক্ষেত্রেই নয়, পর্যটনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই পর্যটনের প্রসারের নামে কোনওভাবেই যাতে চা শিল্প বা চা বাগানের ক্ষতি না হয়, সেদিকে সরকার সতর্ক নজর রাখবে। পর্যটন ও চা শিল্প—দুই ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই সামগ্রিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পর্যটনমন্ত্রী আরও জানান, উত্তরবঙ্গে পর্যটনের সম্ভাবনা অপরিসীম। পাহাড়, ডুয়ার্স, বনাঞ্চল, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং স্থানীয় জীবনযাত্রাকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যটন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে দেশ-বিদেশের আরও বেশি পর্যটককে আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। এর ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং পর্যটননির্ভর ব্যবসারও সম্প্রসারণ ঘটবে।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের এই ঘোষণাগুলিকে ঘিরে উত্তরবঙ্গের পর্যটন মহলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ী, হোটেল মালিক এবং সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ মনে করছে, পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্প আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হবে।

