কোচবিহার, ১৯ জুন:
কোচবিহার জেলার নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের পানিশালা অঞ্চলে আবাস যোজনার নামে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা ‘কাট মানি’ ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের একাংশের বিক্ষোভে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, প্রতিবাদের মুখে পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামীর উদ্দেশে ডিমও নিক্ষেপ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিশালা অঞ্চলের ১৮৮ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য সুনন্দা রায় সরকার এবং তাঁর স্বামী চিরঞ্জিত সরকার আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ থাকা টাকা সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের হাতে হাতে ফেরত দেন। এই টাকা ফেরতের ঘটনাই এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং বিষয়টি নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তাই শুধুমাত্র টাকা ফেরত দিলেই অভিযোগের গুরুত্ব কমে যায় না। অনেকের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার আশায় বিভিন্ন স্তরে দৌড়ঝাঁপ করেন। সেই পরিস্থিতিতে যদি কোনওভাবে অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে, তাহলে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, টাকা ফেরতের সময় এবং তার পরবর্তী পর্যায়ে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। উত্তেজিত গ্রামবাসীদের একটি অংশ পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ডিম নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আবাস যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছে।
তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পঞ্চায়েত সদস্য বা তাঁর পরিবারের তরফেও প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঠিক কী পরিস্থিতিতে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগের বাস্তবতা কতটা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল এবং ক্ষোভ দুই-ই রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা সামনে আনতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষী প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

