শিলিগুড়ি, ২৫ জানুয়ারী :
কার্সিয়াংয়ের অরণ্যে চমক ট্র্যাপ ক্যামেরায় বন্দি বিরল ব্ল্যাক প্যান্থার, উচ্ছ্বসিত বনকর্মীরাউত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অরণ্যে ফের প্রকৃতির এক দুর্লভ মুহূর্তের সাক্ষী হল বন দপ্তর। কার্সিয়াং বনাঞ্চলের গভীরে ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ল বিরল মেলানিস্টিক লেপার্ড, যাকে সাধারণভাবে ব্ল্যাক প্যান্থার বলা হয়। ২০২৫ সালের পর আবার এই রহস্যময় চিতার দেখা মিলতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বনকর্মী ও বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে।
বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্যপ্রাণীদের চলাচল ও আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য কার্সিয়াং বনাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ করিডরে বসানো হয়েছিল একাধিক আধুনিক ট্র্যাপ ক্যামেরা। নিয়মিত ফুটেজ পর্যালোচনার সময়ই আচমকা চোখে পড়ে এই বিরল চিতার উপস্থিতি। গভীর জঙ্গলের মধ্যে নিঃশব্দে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
কালো মসৃণ গায়ের রং ও তীক্ষ্ণ চোখের চাহনিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ব্ল্যাক প্যান্থারের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। বন দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, মেলানিজমের কারণেই এই চিতার গায়ের রং কালো হলেও আলো পড়লে তার শরীরে লেপার্ডের চিরচেনা ছোপের আভাস মিলেছে ফুটেজে।
এই বিরল উপস্থিতি কার্সিয়াং বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব আরও একবার তুলে ধরল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্ল্যাক প্যান্থারের দেখা পাওয়া প্রমাণ করে যে এখনও এই পাহাড়ি অরণ্য বন্যপ্রাণীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে টিকে রয়েছে।
বন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে এবং বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে অরণ্য সংলগ্ন এলাকায় সতর্ক থাকার আবেদনও জানানো হয়েছে, যাতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান বজায় থাকে।

