কোচবিহার, ২২ জুন:
তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিলেন ভূষণ সিংহ। সোমবার কোচবিহারে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেসের পদ ও দলীয় প্রতীক তিনি ত্যাগ করেছেন এবং আপাতত নির্দল হিসেবেই থাকবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-সহ বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভূষণ সিংহ বলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূল কংগ্রেসের অধ্যায় কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না। বরং সমাজসেবা ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সেই কারণেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং অন্যান্য হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে তিনি আগ্রহী বলে জানান।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন ভূষণ সিংহ। তাঁর দাবি, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে চাপের মুখে রাখা হয়েছে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভূষণ সিংহের বক্তব্য, সেই পরিস্থিতিতে তিনি একসময় বিজেপি ছেড়ে পুনরায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন। তবে দলে ফিরে আসার পরও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বরং বিভিন্নভাবে তাঁকে চাপে রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি আরও বলেন, দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাঁর অভিযোগ, জেলা স্তরের নেতৃত্বের একাংশ নিজেদের স্বার্থে দল পরিচালনা করছেন, যার ফলে বহু পুরনো কর্মী ও নেতা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ভূষণ সিংহ। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার প্রশ্নে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
তবে ভবিষ্যতে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন কি না, সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি ভূষণ সিংহ। আপাতত সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে থেকে সামাজিক ও সাংগঠনিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখার ইচ্ছার কথাই তুলে ধরেন তিনি।
ভূষণ সিংহের এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা অন্য কোনও সংগঠনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

