শিলিগুড়ি, ২২ জুন:
মেয়র গৌতম দেবের পদত্যাগের পর শিলিগুড়ি পুরসভার প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার আবহে নতুন বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে তৎপরতা শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। গত শুক্রবার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি পুরসভার একাধিক এমএমআইসি (মেয়র-ইন-কাউন্সিল) সদস্য এবং কয়েকজন কাউন্সিলারের পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে শাসকদল।
সোমবার শিলিগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের অবশিষ্ট কাউন্সিলারদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সভাপতি তথা ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কুন্তল রায়। পুরসভার বর্তমান পরিস্থিতি, প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং নতুন বোর্ড গঠনের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করে, বর্তমানে তাঁদের পক্ষে ২৪ জন কাউন্সিলারের সমর্থন রয়েছে। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই নতুন বোর্ড গঠনের আবেদন জানিয়ে শিলিগুড়ি পুরসভার কমিশনারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, শহরের উন্নয়নমূলক কাজ, নাগরিক পরিষেবা এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য দ্রুত নতুন বোর্ড গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।
দলীয় নেতাদের মতে, পুরসভা একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে দীর্ঘদিন প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষের পরিষেবা প্রাপ্তিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনে যত দ্রুত সম্ভব নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তবে তৃণমূলের এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। শিলিগুড়ি পুরসভার বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন বলেন, শুধুমাত্র কমিশনারের কাছে একটি চিঠি জমা দিলেই নতুন বোর্ড গঠন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তাঁর মতে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইন ও পুরসভার নির্ধারিত বিধি মেনে হওয়া উচিত। সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি করলেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না, বরং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মেয়র ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর পদত্যাগের পর শিলিগুড়ি পুরসভার ক্ষমতার সমীকরণে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী দিনে পুরসভার নেতৃত্ব কার হাতে যাবে এবং নতুন বোর্ড গঠন কত দ্রুত সম্ভব হবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিকে শহরবাসীর একাংশও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব যেন নাগরিক পরিষেবার উপর না পড়ে। পানীয় জল, রাস্তা, নিকাশি, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ যাতে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, সেই বিষয়টিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
শিলিগুড়ি পুরসভার নতুন বোর্ড গঠন নিয়ে এখন বল প্রশাসনের কোর্টে। কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগামী দিনে কী সিদ্ধান্ত নেন, তার উপরই নির্ভর করবে পুরসভার প্রশাসনিক ভবিষ্যতের পরবর্তী অধ্যায়। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ নাগরিক— সকলের নজর এখন সেই দিকেই।

