শিলিগুড়ি, ২২ জুন:
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বাজেট ২০২৬-কে শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব আখ্যা দিয়ে তাকে স্বাগত জানাল উত্তরবঙ্গের শিল্পমহল। সোমবার শিলিগুড়িতে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে বাজেট সম্পর্কে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন লঘু উদ্যোগ ভারতী (LUB) উত্তরবঙ্গ এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (CII) উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্য সরকারের ঘোষিত বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) খাতকে শক্তিশালী করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যা উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শহরের চার্চ রোডে সিএ আদিত্য মিত্রুকার কার্যালয়ে আয়োজিত এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন CII উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান সতীশ মিত্রুকা এবং লঘু উদ্যোগ ভারতী উত্তরবঙ্গের সভাপতি সিএ আদিত্য মিত্রুকা। এছাড়াও শিল্প ও ব্যবসায়িক মহলের একাধিক প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শিল্পোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য যে ধরনের পরিকল্পিত বাজেট প্রয়োজন, রাজ্য সরকার সেই দিকেই গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মতো সম্ভাবনাময় অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাজেটের বিভিন্ন ঘোষণা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তাঁদের মত।
CII উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান সতীশ মিত্রুকা বলেন, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও বিনিয়োগমুখী নীতি শিল্পক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাজেটের ঘোষণাগুলি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গে শিল্প স্থাপনের আগ্রহ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতেও এই বাজেট সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে লঘু উদ্যোগ ভারতী উত্তরবঙ্গের সভাপতি সিএ আদিত্য মিত্রুকা বলেন, শিল্প ও ব্যবসায়িক মহল রাজ্য বাজেটকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে MSME খাতকে উৎসাহিত করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলিকে তিনি স্বাগত জানান। তাঁর মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পই রাজ্যের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারলে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।
বৈঠকে উপস্থিত শিল্প প্রতিনিধিরা আরও জানান, উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটন, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, লজিস্টিকস এবং সীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। বাজেটে এই ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নের জন্য পরোক্ষভাবে যে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে শিল্প বিকাশের জন্য সহায়ক হবে বলে তাঁদের বিশ্বাস।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে শিল্প প্রতিনিধিরা বলেন, শুধুমাত্র বাজেট ঘোষণা নয়, সেই ঘোষণাগুলির দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নই আগামী দিনের মূল চ্যালেঞ্জ। তবে রাজ্য সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ এবং শিল্পবান্ধব মনোভাব উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে বলেই তাঁরা আশাবাদী।
শিল্পমহলের মতে, এই বাজেট উত্তরবঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসায়িক কার্যকলাপ বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্পায়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। ফলে আগামী দিনে উত্তরবঙ্গ রাজ্যের অর্থনৈতিক মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন শিল্প প্রতিনিধিরা।

