জলপাইগুড়ি, ৩০ জুন:
রাত থেকে সকাল পর্যন্ত টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়ল জলপাইগুড়ি শহর। একটানা ভারী বৃষ্টির জেরে শহরের একাধিক নিচু এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জল জমে যান চলাচল ও স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে জলপাইগুড়ি পৌরসভার ৭, ১০, ১১, ১৩, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২৪ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত প্রায় ১৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে জলপাইগুড়িতে। এর ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল দ্রুত নামতে না পারায় জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোথাও হাঁটু জল, আবার কোথাও কোমর জল পর্যন্ত জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন বাসিন্দারা। বহু জায়গায় সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় কাজেও বাড়ি থেকে বের হতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
শহরের একাধিক রাস্তায় জল জমে থাকায় যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে নিচু এলাকাগুলিতে জল নামতে না পারায় দীর্ঘ সময় ধরে জল দাঁড়িয়ে থাকছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে বৃষ্টির পাশাপাশি তিস্তা ও জলঢাকা নদীর জলস্তরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তিস্তা ও জলঢাকা নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে সেচ দফতর। নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
শহরের জলমগ্ন পরিস্থিতি নিয়ে জলপাইগুড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় জানান,
“রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। সেই কারণেই পৌরসভার বেশ কিছু এলাকায় জল জমেছে। তবে জল বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকবে না, ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে নেমে যাবে। সেচ দফতরকে ধরধরা খাল এবং গদাধর খালের নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য চিঠি করা হয়েছে। তা না হলে শহরের সমস্ত জল দ্রুত নামবে না।”
অন্যদিকে, তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফসল চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চাষিদের অভিযোগ, নদীর জল বাড়ার ফলে বহু জমিতে জল ঢুকে পড়েছে এবং ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিস্তা পারের বাসিন্দা রাধারানী বিশ্বাস বলেন,
“রাত থেকে জল বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের অনেক জমিতে জল ঢুকে গেছে। সব ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় আছে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

