জলপাইগুড়ি, ৩০ জুন:
দীর্ঘদিন ধরে নির্মীয়মাণ অবস্থায় পড়ে থাকা একটি কালভার্টের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে মঙ্গলবার বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন করলাভ্যালি চা বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিস সংলগ্ন এলাকায় পথ অবরোধ করে তাঁরা প্রতিবাদে সামিল হন। পরে বিডিও অফিস চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অবিলম্বে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, করলাভ্যালি চা বাগানের চড়কডাঙ্গি লাইনের সংযোগকারী এই কালভার্টের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দাকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১০ জুন অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা রুবিনা মুন্ডার নেতৃত্বে শ্রমিক ও এলাকার বাসিন্দাদের একটি প্রতিনিধিদল সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। সেখানে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানানো হয়। কিন্তু অভিযোগ, স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরও কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর জেরেই এদিন আন্দোলনের পথে নামেন শ্রমিক ও স্থানীয়রা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, চড়কডাঙ্গি লাইনের পুরনো কালভার্টটি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। নতুন কালভার্ট নির্মাণের দাবিতে অতীতেও একাধিকবার আন্দোলন, মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে তৎকালীন সদর বিডিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং গত বছরের দুর্গাপূজোর সময় নতুন কালভার্টের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ দ্রুত এগোলেও শেষ পর্যায়ে এসে হঠাৎ করেই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও আর কাজ শুরু হয়নি। ফলে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে কালভার্টটি।
বর্ষাকালে এই সমস্যার প্রকোপ আরও বেড়েছে। এলাকাবাসীর যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো। কিন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেই সাঁকোটিও জলের তোড়ে ভেসে গেছে। এর ফলে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চড়কডাঙ্গি লাইনের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী, চা বাগানের শ্রমিক, প্রবীণ মানুষ, গর্ভবতী মহিলা এবং অসুস্থ রোগীরা। প্রয়োজনে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে প্রতিদিন কাজের উদ্দেশ্যে চা বাগানে যাতায়াত করতেও সমস্যার মুখে পড়ছেন শ্রমিকরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক নেতা শুভাশিস সরকার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টের কাজ বন্ধ রয়েছে। বহুবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনও ফল মেলেনি। বর্ষায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অবিলম্বে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে দ্রুত শেষ করতে হবে। প্রয়োজনে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”
বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রশাসন আর আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত কাজ শুরু করুক। তাঁদের বক্তব্য, এই কালভার্টটি শুধু একটি রাস্তার সংযোগ নয়, বরং এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই আর বিলম্ব না করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

